নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় আদালতের রায় নিজের পক্ষে থাকার পরও বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা, ঘরবাড়ি ও দই কারখানা ভাঙচুর, গাছপালা কাটা এবং নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তোজাম্মেল হক নামে এক ব্যক্তি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে ধামইরহাট পূর্ব বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তোজাম্মেল হক এ সব অভিযোগ করেন। তিনি উত্তর চকযদু গ্রামের মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে।
তোজাম্মেল হকের দাবি, গত বুধবার দিবাগত রাতে সোলাইমান আলী ৪০-৫০ জন লোক নিয়ে তার বসতবাড়িতে হামলা চালান। ফজরের নামাজের পর স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাড়িঘর ও দই তৈরির কারখানা ভাঙচুর এবং গাছপালা কাটা অবস্থায় দেখতে পান।
তার অভিযোগ, কারখানায় থাকা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে সব মিলিয়ে ৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে মেহবুব, হামিদ ও ইব্রাহিম নামে তিন ব্যক্তি তার খোঁজ নিতে ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীদের ভয়ে তারাও সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন।’
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে তোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমাইতারা মৌজার জেএল নম্বর ১০৬, খতিয়ান নম্বর ১১৩ ও দাগ নম্বর ১৭১-এ মোট ১ একর ৩০ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ শতক জমি তিনি বৈধভাবে কিনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছেন।’
জমির খাজনা ও খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তার নামে হালনাগাদ রয়েছে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, ওই জমির মালিকানা নিয়ে প্রতিপক্ষ আদালতে মামলা করলে কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ৪৩/২০ নম্বর মামলায় আদালত তার পক্ষে রায় দেন। পরে প্রতিপক্ষ ৫১/২৫ নম্বর স্বত্ব আপিল মামলা করলেও ১৭ আগস্ট ২০২৫ আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
তোজাম্মেল হকের অভিযোগ, আদালতের রায়ের পরও তাকে হয়রানি করতে গত ৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও একটি পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে একজন সাবেক অতিরিক্ত সচিবকেও জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্যে বলা হয়েছে, তারা হামলার সঙ্গে জড়িত নন। তোজাম্মেল হককে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
কেকে/এআই