জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই যেন আগুন লেগেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। পরিবহন খরচের অজুহাতে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ছে। চাল-ডাল থেকে শুরু করে সবজি, মাছ, ভোজ্যতেল—কোনোটিই যেন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকছে না। ফলে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।
ফরিদপুর জেলায় বোয়ালমারী, সালথা, মধুখালি, আলফাডাঙ্গা, নগরকান্দাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আলু ২৫–৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০–৭০ টাকা, বেগুন ৭০–৮০ টাকা, পটল ৫০–৬০ টাকা, করলা ৭০–৮০ টাকা এবং শসা ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। রুই ৩৫০–৪৫০ টাকা, কাতলা ৪০০–৫০০ টাকা, ইলিশ আকারভেদে ৮০০-১৫০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০–২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ দিকে সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি প্রায় ১৯০–২১০ টাকা এবং সরিষার তেল ২৫০–২৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। চালের মানভেদে কেজি ৬০–৯০ টাকা, মসুর ডাল ১০০–১৪০ টাকা এবং আটা ৫০–৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে পণ্য কিনতে আসা ক্রেতা বাসার মিয়া বলেন, ‘তেলের দাম বাড়লে শুধু তেল নয়, সবকিছুর দামই বাড়ে। কিন্তু আমাদের আয় তো বাড়ে না। বাজার করতে এসে এখন প্রয়োজনীয় জিনিসও কম কিনতে হচ্ছে।’
কাঁচা মাল ব্যবসায়ী হোসেন বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে। আড়ত থেকে পণ্য আনতে আগের চেয়ে বেশি টাকা লাগে। তাই বাধ্য হয়েই কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
ভোক্তাদের দাবি, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় নিত্যপণ্যের এ ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।
কেকে/এআই