বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● নিয়ন্ত্রণহীন সিলিন্ডারের বাজার       ● বিদায়ী ম্যাচে মেসির গোল-অ্যাসিস্ট, আর্জেন্টিনার বড় জয়      ● অক্টোবরে ৫ দিনেই ৫১৩ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স      ● ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ১০ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৮১      ● হাম উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৩৯৩      ● ভুল ধরিয়ে দেব, সংশোধন না হলে প্রতিরোধ: গোলাম পরওয়ার      ● জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান      
খোলাকাগজ স্পেশাল
নিয়ন্ত্রণহীন সিলিন্ডারের বাজার
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

দীর্ঘদিন ধরেই পাইপলাইনে গ্যাস মিলছে না। মিললেও তা পর্যপ্ত নয়। ফলে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ওপর নির্ভরতা বাড়ছে মানুষের। কিন্তু এখানেও সিন্ডিকেটের থাবা। সেই থাবায় সীমিত আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। এমনকি গত কয়েকদিন বাজার থেকে প্রায় উধাও হয়ে যায় প্রয়োজনীয় এই পণ্যটি। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। বাধ্য হয়ে নির্ধারিত মূল্যের চয়ে অধিক দাম দিয়ে কিনতে হয়। কোথাও আবার বাড়তি দাম দিয়েও সময়মতো সিলিন্ডার মিলছে না। 

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়েছে বিইআরসি। নতুন দর অনুযায়ী, এখন থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়। সেপ্টেম্বরে এই দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। 

ধারণা করা হয়েছিল, মূল্য বৃদ্ধি ফলে এলপিজির বাজারে নৈরাজ্য কমবে। কিন্তু দৃশ্যপট খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। সেই বেশি দামেই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে গ্রাহককে। 

এদিকে নির্ধারিত মূল্যে কোথাও এলপিজি পাওয়া না গেলে বিষয়টি জনস্বার্থে গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, তিনি বলেন, এর আগে অনিয়মের কারণে অনেক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে বাজার তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। 

এলপিজির বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও সরকার আলোচনা করছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, জ্বালানি মন্ত্রী এলপিজি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। এসব বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বাজার স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এর ফলে এলপিজি নিয়ে চলমান সংকট ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে সরকার আশা করছে।

কত বাড়ল এলপিজির দাম : 

নতুন দর গত রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। অক্টোবরের জন্য বেসরকারি এলপিজির খুচরা মূল্য ভ্যাটসহ প্রতি কেজি ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এ দাম ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা ৯৪ পয়সা।

শুধু ১২ কেজির সিলিন্ডার নয়, বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে। ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডার ৮৪২ টাকা, ১২ দশমিক ৫ কেজি ১ হাজার ৯১৩ টাকা, ১৫ কেজি ২ হাজার ২৯৬ টাকা, ১৬ কেজি ২ হাজার ৪৪৯ টাকা, ১৮ কেজি ২ হাজার ৭৫৫ টাকা, ২০ কেজি ৩ হাজার ৬১ টাকা, ২২ কেজি ৩ হাজার ৩৬৭ টাকা, ২৫ কেজি ৩ হাজার ৮২৭ টাকা এবং ৩০ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৫৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩৩ কেজির দাম ৫ হাজার ৫১ টাকা, ৩৫ কেজি ৫ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার ৬ হাজার ৮৮৮ টাকা করা হয়েছে।

একই দিন যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারের দাম ১১ টাকা ৫৩ পয়সা বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। সেপ্টেম্বরে এ দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।

বাজার পরিস্থিতি : 

নতুন দাম অনুযায়ী ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু বাস্তবে এই দামে মিলছে না। গ্রাহকদের অভিযোগ, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে তাদের ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে। 

মিরপুরের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম জানান, কয়েকদিন ধরেই  বাজার এলপিজি সিলিন্ডার উধাও। দোকানে গেলে বলে, সিলিন্ডার নাই। তবে বাড়তি টাকা দিলে ম্যানেজ করে দিতে পারবে। ভেবেছিলাম, দাম বাড়ানোয় সংকট কিছুটা কাটবে। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং আগে বাড়তি দাম দিয়ে ১২ কেজিরটা নিত ২২০০ থেকে ২২০০ টাকা। কিন্তু এখন সেটা চাচ্ছে ২৮০০ টাকা। 

একই অভিযোগ মুগদার সফিকুল ইসলামের। তিনি বলেন, দোকানদারদের সাফ কথা, কিনতে হলে তাদের দামেই কিনতে হবে। তারাও সিন্ডিকেট করে আছে। সরকার নজরদারি না করলে এ নৈরাজ্য কমবে না। 

করপোরেটে জিম্মি সরকার : 

সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সরকারের কাছে দেওয়া এক প্রতিবেদনে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা এলপিজির একটি অংশ বাজারে না ছেড়ে মজুত করে রাখার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে আইগ্যাস, ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি ও যমুনার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়। নাম আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বড় আমদানিকারকদের হাতে থাকা এলপিজির মজুত যাচাই, কোন চালান কখন দেশে এসেছে, কখন খালাস হয়েছে, কতটা গুদামে ছিল এবং কতটা বাজারে ছাড়া হয়েছে— এসব তথ্য পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা : 

এদিকে এলপিজির বাজারে সরবরাহ সংকট নিয়ে অবশ্য একেক পক্ষের বক্তব্য একেক রকম। সরকার ও আমদানিকারকদের একাংশের দাবি, দেশে এলপিজির সামগ্রিক মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক। আবার বাজারের খুচরা চিত্র বলছে, অনেক জায়গায় নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, জাহাজভাড়া বৃদ্ধি ও কার্গো সংকটের কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে ডিলারদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলোই প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ দিচ্ছে না। আবার সরকারের পক্ষ থেকে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।

যা বলছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা : 

বিইআরসি বলেছে, এলপিজি মজুত ও বোতলজাতকরণ, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতাসহ কোনো পর্যায়েই কমিশন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বোতলজাত এলপিজি, রেটিকুলেটেড এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না। অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগের পর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে বাজার তদারকি জোরদারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  নিয়ন্ত্রণহীন   সিলিন্ডার   বাজার   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close