রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় এক সাধারণ পরিবারের কৃষি জমি জবরদখল, প্রতারণা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইটভাটা মালিক রেজাউল কবির টুটুলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার, বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও মিঠাপুকুর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. নুরুজ্জামান (ওরফে মন্টু)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চ্যাংমারী ইউনিয়নের মাহিয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামানের ছেলে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের তৎকালীন প্রচার সম্পাদক ছবুর ও তার নিকটাত্মীয় সহকারী শিক্ষক আশরাফুলকে ২০১৩ সালে মিথ্যা হত্যা মামলায় আসামি করে এলাকাছাড়া করা হয়। এই সুযোগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০১৬ সালে নুরুজ্জামানের কৃষি জমিতে অবৈধভাবে ‘এম. আর. কে ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটা গড়ে তোলেন ১ নম্বর বিবাদী ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল কবির টুটুল।
নুরুজ্জামান অভিযোগে উল্লেখ করেন, ইটভাটার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং চুক্তি সংশোধনের অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও টুটুল ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অনুমোদন ছাড়াই ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইন লঙ্ঘনপূর্বক ইটভাটার অনুমোদন হাসিল করা হয়। এরপর চুক্তির বকেয়া টাকা প্রদান ও স্ট্যাম্প হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার স্ট্যাম্প ও চেকের পাতা নিয়ে জালিয়াতি করা হয়।
সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী, গত ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ইটভাটার কাজ শেষ করে জমি নিচু-উঁচু সমান করে মূল মালিকের নিকট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিবাদীরা শর্ত ভঙ্গ করে জমি জবরদখল করে রাখেন এবং মূল স্ট্যাম্প গুম করেন। গত ৩১ জুলাই ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান স্থানীয় আমিন (ভূমি মাপনকারী) নিয়ে জমি মাপতে গেলে বিবাদীরা তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি, প্রাণনাশের হুমকি ও গালাগাল দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫-৭ জনকে আসামি করে মিঠাপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত অন্য বিবাদীরা হলেন— লুৎফুল মিয়া, সৌরভ ছোটন, মমতা বেগম, মোজাম্মেল হোসেন মন্টু, ম্যানেজার গিয়াস উদ্দীন, ছদরুল ইসলাম ও মিঠু মিয়া।
ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী এই গোষ্ঠীটির ভয়ে আমরা তটস্থ। তারা আমার মূল্যবান কৃষি জমি দখল করে রেখে উল্টো আমাকেই প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার জমি ফেরত এবং এদের জালিয়াতির উপযুক্ত বিচার চাই।’
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।
কেকে/সাশ