কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ঘাসে বিষ মিশিয়ে মো. মালিক মিয়া (৫৮) নামের কৃষকের দুটি গরু হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী স্বজনদের বিরুদ্ধে। মারা যাওয়া গরু দুটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন মালিক মিয়া।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে ভুক্তভোগী কৃষক মো. মালিক মিয়া গরু দুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ) দুপুরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপুক্ষিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মালিক মিয়া পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন, দক্ষিণ চরপুক্ষিয়া গ্রামের মৃধা বাড়ির রেনু মৃধা (৫০), মো. বকুল মৃধা (৬০), মো. সবুজ মৃধা (৫৫), মো. পলাশ মৃধা (৩৫) ও তাপস মৃধা (৩৩)। তারা সবাই মালিক মিয়ার প্রতিবেশী। মালিক মিয়া একই গ্রামের মৃত সিনাম উদ্দিনের ছেলে।
লিখত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে মালিক মিয়ার সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মালিক মিয়ার ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে রেনু মৃধা ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করলে তার ডান হাতের কবজি গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই ঘটনার পর দুই পক্ষের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ আরও তীব্র হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
মালিক মিয়ার অভিযোগ, গতকাল মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর সকালে উত্তর চরপুক্ষিয়া এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ে তার ঘাসের জমির দিকে রেনু মৃধাকে একটি মগ ও কীটনাশকের বোতল হাতে যেতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন। তারা বিষয়টি জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি সেখান থেকে চলে যান। এরপর মালিক মিয়ার ছেলে ওই জমি থেকে ঘাস কেটে প্লাস্টিকের বস্তায় করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে সেই ঘাস গরু দুটিকে খাওয়ানো হয়।
ঘাস খাওয়ার কিছু সময় পরই গরু দুটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরে একপর্যায়ে গরু দুটি মারা যায়। মালিক মিয়ার দাবি, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী গরু দুটির বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আগেও ঝামেলা হয়েছে। গরু দুটির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা হচ্ছে। সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
মালিক মিয়া বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের কারণে আগে আমাকে মারধর করা হয়েছে। এবার আমার দুটি গরু মারা গেছে। আমি মনে করি, পরিকল্পিতভাবে ঘাসে বিষ দিয়ে গরু দুটিকে হত্যা করা হয়েছে। এতে আমার প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল আলম রফিক বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত আছি। জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গরু দুটির মৃত্যুর ঘটনাটিও শুনেছি। তবে ঘাসে বিষ মেশানোর বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেকে/সাশ