বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● নিয়ন্ত্রণহীন সিলিন্ডারের বাজার       ● বিদায়ী ম্যাচে মেসির গোল-অ্যাসিস্ট, আর্জেন্টিনার বড় জয়      ● অক্টোবরে ৫ দিনেই ৫১৩ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স      ● ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ১০ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৮১      ● হাম উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৩৯৩      ● ভুল ধরিয়ে দেব, সংশোধন না হলে প্রতিরোধ: গোলাম পরওয়ার      ● জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
মাতৃত্বের বাইরে নারীর স্বাস্থ্য : পুষ্টি ও শ্রমের রাজনীতি
ড. শহীদুল ইসলাম
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। অথচ স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শরীরচর্চা, বিপাকক্রিয়া এবং হাইড্রেশন বা শরীরে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নিয়ে গত কয়েক দশকে যে বিপুল বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে, তার উল্লেখযোগ্য অংশেই পুরুষের শরীরকে প্রধান গবেষণা-মডেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে মাসিক চক্র, গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদানের পরবর্তী সময়, পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের মতো বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর শরীরে যে হরমোনগত ও শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে, সেগুলো পানি, পুষ্টি, বিপাকক্রিয়া ও শরীরের গঠনকে ঠিক কতটা প্রভাবিত করে—এ বিষয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উত্তর পাওয়া যায়নি। এই গবেষণাগত ব্যবধান কমাতে পেপসিকো নারীর স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও হাইড্রেশন নিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি গবেষণা উদ্যোগ নিয়েছে। গবেষণার শুরুটা হবে হাইড্রেশন দিয়ে, তবে এর লক্ষ্য আরও বিস্তৃত—নারীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শরীর ও পুষ্টির প্রয়োজন কীভাবে বদলায়, সেটি আরও ভালোভাবে বোঝা।

নারীদের নিয়ে স্বাস্থ্য গবেষণা তুলনামূলকভাবে জটিল হওয়ার একটি কারণ হলো জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে। মাসিক চক্রের সময় ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রা ওঠানামা করে। গর্ভাবস্থায় শরীরে ভিন্ন ধরনের শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন ঘটে। সন্তান জন্মের পর ও স্তন্যদানের সময় আবার পানি ও পুষ্টির প্রয়োজন পরিবর্তিত হয়। এরপর পেরিমেনোপজ ও মেনোপজে হরমোনের পরিবেশে বড় পরিবর্তন আসে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির পরিমাণ, শরীরের চর্বির বণ্টন, হাড়ের স্বাস্থ্য ও বিপাকক্রিয়াতেও পরিবর্তন ঘটতে পারে।

অতীতে এই পরিবর্তনশীলতাকে অনেক সময় গবেষণার জন্য একটি জটিলতা হিসেবে দেখা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম হরমোনগত ওঠানামার কারণে পুরুষদের নিয়ে গবেষণা পরিচালনা ও তথ্য বিশ্লেষণ সহজ—এমন ধারণা দীর্ঘদিন কাজ করেছে। পাশাপাশি গর্ভধারণের সম্ভাবনা ও ভ্রমণের নিরাপত্তা নিয়ে নৈতিক ও চিকিৎসাগত উদ্বেগের কারণেও অনেক গবেষণায় সন্তান ধারণে সক্ষম নারীর অংশগ্রহণ সীমিত রাখা হয়েছে। এর ফলে মানবস্বাস্থ্য সম্পর্কে অর্জিত অনেক তথ্য মূলত পুরুষদের ওপর পরিচালিত গবেষণা থেকে এসেছে এবং পরে তা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য প্রয়োগ করা হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান এখন এই ধারণাকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে। নারীর শরীর যদি হরমোনগতভাবে বেশি পরিবর্তনশীল হয়, তাহলে সেই জটিলতা তাদের গবেষণা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ নয়; বরং আরও ভালো ও সুনির্দিষ্টভাবে গবেষণা করার প্রয়োজনীয়তাই তুলে ধরে।

এই গবেষণায় হাইড্রেশনকে প্রথমে গুরুত্ব দেওয়ার যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। পানি পান করা দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ একটি বিষয় হলেও শরীরে পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জটিল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। মস্তিষ্ক, কিডনি, হৃদ্রক্তনালি ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন হরমোন একসঙ্গে কাজ করে শরীরে কতটা পানি ও সোডিয়াম থাকবে এবং কতটা বেরিয়ে যাবে তা নিয়ন্ত্রণ করে। তৃষ্ণা, কিডনির কার্যক্রম, ভ্যাসোপ্রেসিন বা অ্যান্টিডাইইউরেটিক হরমোন এবং রেনিন-অ্যাঞ্জিওটেনসিন-অ্যালডোস্টেরন ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়া এই ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

নারীর প্রজনন হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনও শরীরের পানি ও লবণ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে এসব হরমোনের মাত্রা পরিবর্তনের কারণে তৃষ্ণার অনুভূতি, শরীরে পানি ধরে রাখার প্রবণতা, তরলের বণ্টন এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কিছু পরিবর্তন ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি এতটা সরল নয় যে একটি হরমোনকে শুধু পানি ধরে রাখার এবং অন্যটিকে পানি বের করে দেওয়ার হরমোন বলা যাবে। এর প্রভাব নির্ভর করে বয়স, হরমোনের মাত্রা, মাসিক চক্রের পর্যায়, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, পরিবেশ এবং ব্যক্তির নিজস্ব শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের ওপর। তাই প্রশ্নটি শুধু একজন নারী প্রতিদিন কত লিটার পানি পান করবেন, সেটি নয়; বরং কোন বয়সে, কোন জীবনপর্যায়ে এবং কী ধরনের পরিবেশ ও শারীরিক কার্যক্রমে তার পানি ও ইলেক্ট্রোলাইটের প্রয়োজন কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেটি বোঝা।

গবেষণায় বিএমআই-এর পাশাপাশি পেশির পরিমাণ, শরীরের চর্বি, সামগ্রিক দেহগঠন এবং হরমোনগত পরিবর্তনের সঙ্গে হাইড্রেশনের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ শরীরের সব টিস্যুতে পানির পরিমাণ সমান নয়। পেশি ও অন্যান্য চর্বিহীন টিস্যুতে চর্বিযুক্ত টিস্যুর তুলনায় পানির অনুপাত বেশি। ফলে একই ওজনের দুই নারীর শরীরে পেশি ও চর্বির অনুপাত ভিন্ন হলে তাদের মোট শরীরের পানির পরিমাণও ভিন্ন হতে পারে। ভবিষ্যতে তাই শুধু শরীরের ওজন নয়, দেহগঠন ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক হাইড্রেশন নির্দেশনা তৈরি করা যায় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একজন গ্রামের কৃষিশ্রমিক নারী, পোশাক কারখানার কর্মী, অফিসে কর্মরত নারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গর্ভবতী মা, নারী ক্রীড়াবিদ কিংবা একজন মেনোপজ-পরবর্তী নারীর শারীরিক কার্যক্রম, খাদ্যাভ্যাস, শরীরের গঠন এবং পুষ্টির প্রয়োজন এক নয়। এর সঙ্গে বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া যুক্ত হওয়ায় হাইড্রেশনের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বছরের দীর্ঘসময় উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মধ্যে লাখ লাখ নারী ঘরে ও বাইরে কাজ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনাও জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

অতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে শুধু পানি নয়, সোডিয়ামসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রোলাইটও বেরিয়ে যায়। তবে গরমে থাকলেই প্রত্যেক নারীর নিয়মিত স্পোর্টস ড্রিংক বা ইলেক্ট্রোলাইট পানীয় প্রয়োজন—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। অধিকাংশ সুস্থ মানুষের দৈনন্দিন হাইড্রেশনের প্রধান উৎস হওয়া উচিত নিরাপদ পানি ও স্বাভাবিক সুষম খাদ্য। কিন্তু দীর্ঘসময় কঠোর শারীরিক পরিশ্রম, প্রচুর ঘাম, খেলাধুলা অথবা বিশেষ পরিবেশে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাই কোন পরিস্থিতিতে শুধু পানি যথেষ্ট এবং কখন অতিরিক্ত ইলেক্ট্রোলাইট প্রয়োজন হতে পারে, তা নিয়ে স্থানীয় গবেষণা প্রয়োজন।

নারীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের পুষ্টিগত চাহিদাও আলাদা। গর্ভাবস্থায় রক্ত ও প্লাজমার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং কিডনি ও হৃদ্রক্তনালি ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অভিযোজন ঘটে। মা ও গর্ভস্থ শিশুর প্রয়োজন মেটাতে পানি ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন পরিবর্তিত হয়। সন্তান জন্মের পর এবং বিশেষ করে স্তন্যদানের সময় আবার নতুন পুষ্টিগত চাহিদা তৈরি হয়। অন্যদিকে পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তনের পাশাপাশি বয়সজনিত কারণে পেশির পরিমাণ কমে যাওয়া, শরীরের চর্বির বণ্টনে পরিবর্তন এবং হাড়ের স্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং সামগ্রিক খাদ্যের মানের গুরুত্বও বাড়ে। অর্থাৎ ‘নারীর পুষ্টি’কে একটি একক বিষয় হিসেবে না দেখে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রয়োজন অনুযায়ী বিবেচনা করা দরকার।

পেপসিকোর বৃহত্তর গবেষণার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির গ্যাটোরেড ব্র্যান্ড নারীর হাইড্রেশন, পুষ্টি ও শরীরচর্চা নিয়ে বহু বছরব্যাপী ‘ইড়ফু ড়ভ ঝপরবহপব’ উদ্যোগ নিয়েছে। এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে ক্রীড়া পুষ্টিতে। দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া পুষ্টির বহু নির্দেশনা পুরুষ অ্যাথলেটদের ওপর পরিচালিত গবেষণা থেকে এসেছে এবং পরে তা নারী অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়েছে। এখন গবেষকেরা জানতে চাইছেন—কার্বোহাইড্রেট ব্যবহার, প্রোটিনের প্রয়োজন, ব্যায়ামের পর শরীরের পুনরুদ্ধার, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ঘামের হার এবং পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নারী অ্যাথলেটদের জন্য আরও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন কি না। বাংলাদেশেও নারী ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। তাই বাংলাদেশের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, খাদ্যাভ্যাস ও নারী অ্যাথলেটদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় গবেষণা ভবিষ্যতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলোর একটি হলো—‘হাইড্রেশন কেবল শুরু’। নারীর শরীর সম্পর্কে নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য শুধু পানি বা ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে এই জ্ঞান প্রোটিন, পেশির স্বাস্থ্য, সুস্থ বার্ধক্য, শক্তি বিপাক, ভিটামিন-মিনারেল, ওজন ব্যবস্থাপনা এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি খাদ্য ও পানীয়ের উদ্ভাবনেও ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের খাদ্যশিল্পের জন্য এখানেই একটি বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশে নারীকেন্দ্রিক পুষ্টিপণ্য বলতে এখনো প্রধানত গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য তৈরি পণ্য অথবা কিছু ভিটামিন-মিনারেল সাপ্লিমেন্টকে বোঝানো হয়। অথচ একজন কিশোরীর আয়রন ও সামগ্রিক পুষ্টির প্রয়োজন, একজন কর্মজীবী নারীর দৈনন্দিন পুষ্টি, একজন নারী ক্রীড়াবিদের প্রোটিন ও হাইড্রেশন এবং একজন মেনোপজ-পরবর্তী নারীর পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্যের প্রয়োজন এক নয়। এখান থেকেই বাংলাদেশের খাদ্যশিল্পে জীবনপর্যায়ভিত্তিক পুষ্টি বা ‘ষরভব-ংঃধমব হঁঃৎরঃরড়হ’ ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

তবে নারীর জন্য আলাদা পণ্য তৈরি করলেই সেটি বিজ্ঞানভিত্তিক নারীকেন্দ্রিক পুষ্টি হয়ে যায় না। প্যাকেটের রং পরিবর্তন, ‘ঋড়ৎ ডড়সবহ’ লেখা কিংবা কয়েকটি ভিটামিন যোগ করাই যথেষ্ট নয়। কোনো পণ্য নারীর বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রয়োজন পূরণের দাবি করলে সেই প্রয়োজনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকতে হবে এবং পণ্যটি সত্যিই সেই সুবিধা দিতে পারে কি না, তারও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। অন্যথায় নারীকেন্দ্রিক পুষ্টি বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের পরিবর্তে শুধু বিপণনের কৌশলে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, পুষ্টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্রীড়া সংস্থা এবং খাদ্যশিল্পের জন্য তাই নতুন গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি নারীদের বয়স ও জীবনপর্যায় অনুযায়ী পানি গ্রহণ, ঘামের হার, সোডিয়াম ক্ষয়, দেহগঠন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম এবং গরম পরিবেশে শরীরের পানির অবস্থা নিয়ে বড় আকারের গবেষণা প্রয়োজন। কিশোরী, গর্ভবতী নারী, পোশাকশিল্পের কর্মী, কৃষিশ্রমিক, নারী অ্যাথলেট এবং মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের আলাদা জনগোষ্ঠী হিসেবে গবেষণা করলে বাংলাদেশের নিজস্ব পুষ্টি ও হাইড্রেশন নির্দেশনা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। কারণ ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত গবেষণার ফল বাংলাদেশের জলবায়ু, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় সবসময় একইভাবে প্রযোজ্য হবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বিশ্বের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ধীরে ধীরে ‘সবার জন্য একই সমাধান’ ধারণা থেকে সরে আসছে। ভবিষ্যতের পুষ্টিতে বয়স ও লিঙ্গের পাশাপাশি দেহগঠন, জীবনের পর্যায়, শারীরিক কার্যক্রম, খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ ও ব্যক্তির বিপাকীয় বৈশিষ্ট্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নারী কোনো ছোট বা বিশেষ ভোক্তাগোষ্ঠী নয়; তারা বাংলাদেশেরও প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী। একজন কিশোরী, একজন মা, একজন কর্মজীবী নারী, একজন ক্রীড়াবিদ এবং একজন মেনোপজ-পরবর্তী নারী একই শারীরবৃত্তীয় অবস্থায় থাকেন না। তাই বাংলাদেশের জন্যও এখন সময় এসেছে নারীর পুষ্টিকে শুধু মাতৃত্বকালীন পুষ্টির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ের প্রয়োজন হিসেবে দেখার। নারীর শরীরকে যথাযথভাবে না বুঝে নারীর জন্য সত্যিকার অর্থে বিজ্ঞানভিত্তিক পুষ্টি তৈরি করা সম্ভব নয়। আর সে কারণেই হাইড্রেশন হয়তো সত্যিই কেবল শুরু।

লেখক : খাদ্যবিজ্ঞানী, বার্মিংহাম, ইউকে

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close