কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে মফিজুল নামে ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিন জব্দ এবং বালু পরিবহনের পাইপগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে পাকুন্দিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপম দাস। এ সময় পাকুন্দিয়া থানা-পুলিশের সদস্যরা তাকে সহযোগিতা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হওয়াসহ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানের সময় ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল বলে দেখতে পায় অভিযানকারী দল। এ সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মফিজুলকে আটক করা হয়।
পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মফিজুলকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিনটি জব্দ করা হয়। বালু উত্তোলন ও পরিবহনে ব্যবহৃত পাইপগুলোও ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজার দিয়ে একটানা বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ ছাড়া অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের কারণে স্থানীয় সড়কেও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।
অভিযান চলাকালে নদ এলাকায় স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিও দেখা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন না করতে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, “নদ থেকে নিয়ম না মেনে বালু তোলার কারণে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় রাতের আঁধারেও বালু তোলা হয়। নিয়মিত অভিযান চালানো হলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হবে।”
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি নিয়মনীতি অমান্য করে কেউ নদ থেকে বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।”
কেকে/সাশ