বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না      ● দুর্গাপূজায় ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি      ● কোনো ধরনের নৈরাজ্য প্রশ্রয় দেবে না সরকার: রিজভী      ● নিয়ন্ত্রণহীন সিলিন্ডারের বাজার       ● বিদায়ী ম্যাচে মেসির গোল-অ্যাসিস্ট, আর্জেন্টিনার বড় জয়      ● অক্টোবরে ৫ দিনেই ৫১৩ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স      ● ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ১০ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৮১      
দেশজুড়ে
মাছ ধরার ট্রলারে জলদস্যুদের তাণ্ডব, আহত ১০
মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৩ পিএম আপডেট: ০৭.১০.২০২৬ ১:৩৪ পিএম
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে আবারও হানা দিয়েছে জলদস্যুরা। কক্সবাজারের মহেশখালী সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে এক রাতের ব্যবধানে অন্তত ছয়টি মাছ ধরার ট্রলারে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জলদস্যুদের মারধরে অন্তত ১০ জন জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। ট্রলারগুলো থেকে কোটি টাকার মাছ, জাল, জ্বালানি তেল, রান্নার রসদসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দস্যুরা।

স্থানীয় সূত্র ও ট্রলার মালিকরা জানান, গত রোববার রাতে মহেশখালী উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেরা জাল পেতে মাছ ধরছিলেন। এ সময় একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল আচমকা ট্রলারগুলো ঘিরে ফেলে। অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে ট্রলারে উঠে পড়ে দস্যুরা। পরে ট্রলারে থাকা বিপুল পরিমাণ ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, মূল্যবান জাল, ড্রামভর্তি জ্বালানি তেল ও খাবারসামগ্রী লুট করে।

লুটপাটের সময় জেলেরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে জলদস্যুরা লোহার রড, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ জন জেলে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। পরে দস্যুরা মালামাল নিয়ে চলে গেলে অন্য জেলেরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কূলে নিয়ে আসেন।

আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

হামলার শিকার হয়ে ফিরে আসতে সক্ষম হওয়া কামাল মাঝি বলেন, সন্ধ্যার পর তারা সাগরে জাল তুলছিলেন। এ সময় একটি বড় ট্রলার তাদের মাছ ধরার ট্রলারের কাছে এসে থামে। ওই ট্রলারে ২০ থেকে ২২ জনের মতো লোক ছিল। তারা অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে ট্রলারে উঠে মারধর শুরু করে।

কামাল মাঝির ভাষ্য, তাদের ট্রলারে ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি মাছ ছিল, যার আনুমানিক মূল্য সাড়ে তিন লাখ টাকা। জলদস্যুরা মাছের পাশাপাশি জ্বালানি তেল, খাবার-রসদ, জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে যায়। পরে ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়ায় ট্রলার চালাতেও সমস্যা হয়।

তিনি বলেন, হামলার পর আশপাশের ট্রলারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কোথাও কোথাও চিৎকার ও ডাকাডাকির শব্দ শোনা যায়। পরে তারা জানতে পারেন, আরও কয়েকটি ট্রলারে হামলা হয়েছে।

কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসাইন বলেন, গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর মহেশখালীর কালারমারছড়ার মোহাম্মদ শাহঘোনার ঘাট থেকে ১০ থেকে ১২টি ট্রলার গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। চার-পাঁচ দিন মাছ ধরার পর ফেরার পথে ছয়টি ট্রলারে হামলার ঘটনা ঘটে।

আমির হোসাইনের দাবি, হামলায় অন্তত নয়জন জেলে ও ট্রলার মালিক আহত হয়েছেন। তারা হলেন রকিয়ত উল্লাহ মাঝি, নুর আলম বহদ্দার, আশেক উল্লাহ কালু বহদ্দার, বেলাল হোসেন মাঝি, জয়নাল বহদ্দার, কামাল হোসেন, নুরুল আবছার বহদ্দার, মাহামুদুল হক ও সাইফুল। আহতদের কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিখোঁজ ট্রলারগুলোর মধ্যে ওবায়দুল হক বহদ্দারের দুটি এবং আহমদ উল্লাহ বহদ্দারের একটি ট্রলার রয়েছে। প্রতিটি ট্রলারে প্রায় ছয় থেকে সাত লাখ টাকা করে ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন আমির হোসাইন।

জেলেদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে মহেশখালী, সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন সাগরে জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। এতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নিরাপদে মাছ ধরার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সাগরে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর টহল আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং দস্যুদের গ্রেপ্তারে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছে জেলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।

মহেশখালী থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ সুলতান বলেন, মহেশখালী-সোনাদিয়া থেকে সাগরে জলদস্যুতার ঘটনার খবর শুনেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ কোনো কিছু অবহিত করেনি। তারপরও পুলিশের টিম কাজ করছে। এ ছাড়া তিনটি ট্রলারের ২৪ জন জেলে নিখোঁজের বিষয়টিও কেউ তাদের জানায়নি। এরপরও সব বিষয় বিবেচনা করে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে সাগরে জলদস্যুতা ও চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে টহল জোরদারের কথা জানিয়েছে কোস্টগার্ড। সংস্থাটি বলছে, আধুনিক জাহাজ ও স্পিডবোটের পাশাপাশি রাডার ও জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি করা হচ্ছে।

কোস্টগার্ডের অপারেশন কর্মকর্তা লে. কমান্ডার আরাফাত হোসেন বলেন, মহেশখালী সংলগ্ন সাগরে হামলার বিষয়ে তারা বিভিন্নজনের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছেন। এসব তথ্য যাচাই করে জলদস্যুদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এর মধ্যেই কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাঁচটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৭ রাউন্ড গুলিসহ তিনজনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। সোমবার মধ্যরাতে বদরখালী ইউনিয়নের বদর আউলিয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ তানভীর (২১), মো. রুকমদ্দিন (৪২) ও আকতার আহমেদ (৭৮)। তারা চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

কোস্টগার্ড জানায়, সাগরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজ ও মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতির উদ্দেশ্যে কয়েকজনের অবস্থানের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পাঁচ থেকে ছয়জন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের হেফাজত ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি বন্দুক ও ১৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

লে. কমান্ডার আরাফাত হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা অস্ত্রগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন সময় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

জেলেদের ভাষ্য, সাগরে মাছ ধরার মৌসুমে জলদস্যুদের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। তাই জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করে জেলেদের জন্য নিরাপদ সাগর নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কেকে/এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close