নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে চার বছর আগে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০২২ সালে নতুন ভবনও উদ্বোধন করা হয়। তবে এখনো অনুমোদন হয়নি ৫০ শয্যার প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো। ফলে পুরোনো ৩১ শয্যার কাঠামো দিয়েই চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। সেই কাঠামোরও ৪০টি পদ শূন্য রয়েছে।
প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে গড়ে ১,২০০ থেকে ১,৪০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষের পাশাপাশি উপজেলার চারটি বড় অর্থনৈতিক অঞ্চলের শ্রমিকরাও এ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অনুমোদিত ১৬২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২২ জন। শূন্য রয়েছে ৪০টি পদ। চিকিৎসকের ৩৬টি পদের মধ্যে ছয়টি শূন্য। নার্সের ৩৪টি পদের মধ্যে একটি শূন্য, তিনজন নার্স প্রেষণে রয়েছেন। তৃতীয় শ্রেণির ৩৪টি পদের মধ্যে দুটি এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৩টি পদের মধ্যে ১৪টি পদ শূন্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নষ্ট থাকায় সেবা বন্ধ রয়েছে। ফলে রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। ভর্তি রোগী আব্দুল মতিন বলেন, “ডাক্তার দিনে শুধু একবার দেখে যায়। একজন নার্স আছেন, কিন্তু রোগী তো ১৫ জনের বেশি। তিনি একা কী করবেন? ওষুধ সব বাইরে থেকেই কিনতে হয়েছে।”
মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ইতির বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “হাসপাতালের সব জায়গায় ময়লা-আবর্জনা। শৌচাগারের অবস্থা আরও নাজুক। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তেমন কাজও করেন না।”
দীর্ঘদিন নষ্ট থাকার পর সম্প্রতি ইসিজি সেবা চালু হয়েছে। সংসদ সদস্য (নারায়নগঞ্জ-৩) আজহারুল ইসলাম মান্নান ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি ইসিজি মেশিন অনুদান দেওয়ায় এ সেবা চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।
হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স প্রায়ই অকেজো থাকে। ফলে রোগীদের ঢাকায় নিতে হলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হয়। প্রয়োজনীয় ওষুধও সবসময় পাওয়া যায় না, রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হয়।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকেও জনবল সংকট ও ওষুধ সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পৌরসভায় নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হচ্ছে।
সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাসেল আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, “হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। তবে জনবল কাঠামো এখনো অনুমোদিত হয়নি। বর্তমানে ৩১ শয্যার কাঠামো অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করবেন।”
কেকে/সাশ