বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে কর্মরত কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বৈষম্য, প্রহসন ও হয়রানির প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতি পালন করেছেন পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মচারীরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে অবস্থান নিয়ে তারা কর্মবিরতি পালন করেন। পদোন্নতি না দেওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান কর্মসূচি চলবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
এ বিষয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সেমিনার সহকারী মো. মাহফুজার রহমান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। কেউ ১০ বছর, কেউ সাত বছর ধরে পদোন্নতি পাননি। আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর আপগ্রেডেশন দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরও আমাদের আপগ্রেডেশন বোর্ডের আয়োজন করা হয়নি। এ জন্য আমরা উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়েছি। আমরা প্রথমে দুই ঘণ্টা করে অবস্থান করব। এরপরও দাবি আদায় না হলে আমরা সবাই অনশনে যাব।’
গণিত বিভাগের সেমিনার সহকারী মোসা. কাকলী বেগম বলেন, ‘আমরা খুব অল্প টাকা বেতন পাই। এই অল্প টাকা দিয়ে পরিবার চালানো খুব কষ্টকর। যার কারণে আমাদের বেশির ভাগ কর্মচারী ভাই-বোন ঋণে জর্জরিত। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ইতিমধ্যে আমাদের অনেক কর্মচারী ভাই-বোন মারা গেছেন।’
দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সেমিনার সহকারী মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে কম বেতনভোগী কর্মচারী। সময়মতো পদোন্নতি হলে আমরা আর্থিকভাবে কিছুটা উপকৃত হতাম। অথচ গত ১০ বছর ধরে আমরা কোনো আপগ্রেডেশন পাচ্ছি না। এতে আমরা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। মাননীয় উপাচার্যের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিয়ে পদোন্নতি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’
পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মচারীদের মধ্যে এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হুমায়ুন কবির সাগর, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর রাফি আক্তার, দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সেমিনার অ্যাটেনডেন্ট মোসা. ফারজানা বেগমসহ আরও অনেকে।
কেকে/এমএস