মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ছাত্র-জনতা ও জুলাই আন্দোলনকারীরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে ‘মানিকগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের জনগণ’ এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বাহাউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ‘বাহাউদ্দীনের পদত্যাগ করতে হবে’ এবং ‘আওয়ামী লীগের দোসররা হুঁশিয়ার, সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ১৮ জুলাই ও ৪ আগস্টের আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল। জুলাই আন্দোলন–সংক্রান্ত একটি মামলায় তত্ত্বাবধায়ক বাহাউদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলেও বক্তারা দাবি করেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের বিভিন্ন টেন্ডারের কাজ পেয়ে আসছে। অনলাইনে টেন্ডার হলেও আগে থেকেই দর জানিয়ে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হতো বলে তাদের অভিযোগ। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বাহাউদ্দিনের পারিবারিক সখ্যতার কারণে তিনি প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দপ্তরের কাজে সরকারের রুলস মেনে কাজ করতে হয়। টেন্ডারসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া নিয়মতান্ত্রিকভাবেই করা হয়।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
মানববন্ধনে বক্তারা বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ আইনের আওতায় আনার দাবি করেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন।
কেকে/ এমএস