ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। হাসপাতাল চত্বরে তাদের অবাধ প্রবেশ ও সাধারণ রোগীদের জিম্মি করে সেবা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজেই বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালের কার্যক্রমে বাধা এবং এক আনসার সদস্যকে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন রায় জানান, এক সপ্তাহ আগে এক আনসার সদস্য হাসপাতালের রুম থেকে এক দালালকে বের হতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই দালাল প্রধান গেটের কাছে গিয়ে আনসার সদস্যকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।
ডা. শোভন রায় বলেন, “হাসপাতাল চত্বর ও আশপাশ থেকে দালালদের চিরতরে দূর করতে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাদের সহযোগিতায় দ্রুতই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা অভিযোগ করেছেন, দালালদের কারণে তারা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নারী জানান, সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা সময়মতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। অথচ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা বাইরে থেকে নমুনা বা রক্ত এনে সহজেই জমা দিচ্ছেন। অর্থের বিনিময়ে তাদের কাজ আগে সম্পন্ন হচ্ছে, আর প্রকৃত রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সেবা পাচ্ছেন না।
এ ছাড়া রয়েছে ওষুধের সংকট, টিকিট বিতরণে অনিয়মসহ নানা সমস্যা। স্থানীয়রা দ্রুত দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
কেকে/সাশ