ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ট্রলি বাণিজ্যের নৈরাজ্য আবারও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, টাকা ছাড়া ট্রলি পাওয়া যায় না। এ নিয়ে রোগী ও স্বজনরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এমন অভিযোগের মধ্যেই ট্রলি না পেয়ে মুমূর্ষু শিশুকে কোলে নিয়ে ছুটে চলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ভাইরাল হয়। পরে জানা যায়, শিশুটি মারা গেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় কানাইপুরের হোগলাকান্দি গ্রামের রবিন শেখের মেয়ে সাফা মারওয়া (৩)। তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ট্রমা বিভাগ থেকে সার্জারি বিভাগে পাঠানো হয়। কিন্তু ট্রলি না পেয়ে স্বজনরা শিশুটিকে কোলে নিয়ে দৌড়ান। অক্সিজেন মাস্ক ও স্যালাইন দেওয়া অবস্থায় শিশুটিকে কোলে নিয়ে ছুটে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
শিশুটির বাবা রবিন শেখ অভিযোগ করে বলেন, ট্রলি চেয়েও পাননি। কোলে করে নিতে গিয়ে ক্যানুলা খুলে যায় এবং শিশুটি আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। সার্জারি বিভাগে গিয়ে নার্সদের ডাকলেও তারা দেরি করে আসেন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় স্বজনরা চিকিৎসা অবহেলা ও ট্রলি বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, টাকা ছাড়া ট্রলি দেওয়া হয় না। রোগী বহনের পর ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। টাকা না দিলে দুর্ব্যবহার করা হয়।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার সাদ্দাম হোসেন জানান, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগকৃত কর্মচারীরা ট্রলি বহনের দায়িত্বে থাকেন। তাদের টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরিদপুর কোতয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু দাবি করেন, পর্যাপ্ত ট্রলি রয়েছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় ট্রলি দেওয়া হয়নি। তবে টাকা দাবির বিষয়ে তিনি অবগত নন।
কেকে/সাশ