পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তা এবং স্কুলের আশপাশে হিংস্র কুকুর কর্তৃক আক্রমণ ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।
জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন বেওয়ারিশ কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া শুরু করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিনদিনে উপজেলার কচুয়াকাঠি, আসপদ্দি, উজিয়াল খান, বলভদ্রপুরসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে বেওয়ারিশ কুকুর দলবদ্ধভাবে ঘোরাঘুরি করছে। সুযোগ পেলেই পথচারী, শিশু বা বৃদ্ধের ওপর দলবেঁধে আক্রমণ চালাচ্ছে। কুকুরের কামড়ে উপজেলার কেউন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা স্বপ্না রানী, শিক্ষার্থী আকাশ হালদার (১১), প্রদীপ(১২), আব্দুল্লাহ (১৩), রাইসা (৭), মাহিরা (১২), অপ্রনীল (৮), হেমায়েত(৬২), সিরাজুলসহ (৩) ১৫ আতহ হয়েছেন।
কাজী হারুন অর রশিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বীথিকা সাহা বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকাশকে কুকুরে কামড়ানোর পর থেকে শিশুদের মধ্যে সবসময় একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। কুকুরের আতঙ্কে কোমলমতি শিশুরা স্কুলে আসতে ভয় পাচ্ছে।’
অভিভাবক ফারজানা মুনমুন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘কুকুরের আতঙ্কে সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি। এখন বাধ্য হয়ে নিজেদেরই বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে আসতে হচ্ছে। অনেক শিশু কুকুরের ভয়ে স্কুলে যেতেই চাইছে না।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার বলেন, ‘গত তিনদিনে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের অন্তত নয় জন কুকুরের কামড়ের চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে আব্দুল্লাহ নামের এক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। বাকি আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার বলেন, ‘গত তিনদিনে উপজেলার কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পথচারী কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কুকুরের মাধ্যমে ছড়ানো জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে মঙ্গলবার থেকে উপজেলার বেওয়ারিশ কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে থাকা কুকুরকে এ টিকার আওতায় আনা হবে।’
কেকে/এআই