বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● ডেঙ্গুতে ২৪ ঘন্টায় ৮ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৮৯      ● একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন      ● সমঝোতার পরও এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর      ● একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না      ● দুর্গাপূজায় ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি      ● কোনো ধরনের নৈরাজ্য প্রশ্রয় দেবে না সরকার: রিজভী      ● নিয়ন্ত্রণহীন সিলিন্ডারের বাজার       
দেশজুড়ে
সম্মানি ছাড়া সেবা দেন না সাব-রেজিস্ট্রার, দাতা-গ্রহীতাদের অভিযোগ
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

নোয়াখালী সোনাইমুড়ী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারীসহ সাব রেজিস্টারের বিরুদ্ধে দলিল ও নকল প্রতি ঘুষ নেয়াসহ নানা দুর্নীতির অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও খাজনা-খারিজসহ প্রয়োজনীয় জরুরি কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও প্রতি দলিলে মোটা অংকের সম্মানি না দিলে সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক দলিলে স্বাক্ষর করছেন না বলে সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছেন দাতা-গ্রহীতারা।

গোপন সূত্রে জানা যায়, দাতা এবং গ্রহীতাদের মধ্যে যারা সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক দলিল প্রতি নির্ধারিত সম্মানি টাকা জমা দিচ্ছেন তাদের দলিলে কোনায় বিশেষ ধরনের চিহ্ন প্রদান করে এজলাসে পাঠানো হচ্ছে। আর যে সমস্ত দাতা ও গ্রহীতারা সম্মানি বা উৎকোচ দিচ্ছেন না, তাদের শতভাগ কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত দিচ্ছেন সাব-রেজিস্টার। 

বারাইপুর গ্রামের মজিবুল হক জানান, আমার দলিলে সামান্য একটু দাগের ভুল হয়েছে এ কারণে আমি সাব-রেজিস্টার এবং তার অফিস সহকারিকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। 

আরেকজন সেবা গ্রহীতা জানান, আমি একজন ডাক্তার পরিচয় দেওয়ার পরেও আমার একটা দলিলে সরকারি খরচের বাইরে আরও দুই লাখ টাকা বেশি কমিশন দিতে হয়েছে। 

দলিল লেখক সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য জানান, সরকারিভাবে নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও সাধারণ দলিল নিবন্ধনে ২০-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয় দাতা গ্রহীতাদের। এ ছাড়াও আমমোক্তারনামা ও দানপত্রের মতো বিশেষ দলিলে ক্ষেত্রবিশেষে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয়। 

তাছাড়া হেবা ঘোষণা দলিল, সরকারি ফি দলিল লেখক ও সাব রেজিস্টার দাতা গ্রহীতাদের কাছ থেকে জমির মূল্য অনুযায়ী প্রতি লাখে ১-২ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। কমিশন দলিলেও একই অবস্থা। সরকারি ফি ন্যূনতম হলেও নেয়া হয় প্রতি দলিলে ৩০-৪০ হাজার টাকা। ক্ষেত্র বিশেষে আরও বেশি অ্যামাউন্ট নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। 

বায়না দলিলের সময় এক ধরনের মূল্য দেখানো হলেও মূল দলিলে সরকারের কর ফাঁকি দিতে জমির মূল্য কয়েকগুণ কম দেখানো হয়। এতে সরকারের এ দপ্তর প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং ক্ষতির মুখে পড়ছে।

তথ্য বলছে, সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন ম্যানুয়াল-২০১৪ মানছেন না সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্টার সিরাজুল ইসলাম। এ মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই এ অফিসটি ঘুষ ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন তিনি।

সরকারি ফি’র বাইরে ঘুষ না দিলে কোনো কাজ হয় না সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে। দলিলের নকল তুলতে সরকারি ফি ২৭০ টাকার বিপরীতে সেবাগ্রহীতাদের গুনতে হয় ২ হাজার টাকা। সরকারি ফি’র বাইরে পুরো টাকাই যায় সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের পকেটে। সাব কবলা দলিলের মূল্য এক হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হলে সরকারি ফি’র বাইরে সেরেস্তা বাবদ আড়াই হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে। যদি দলিলের মূল্য এক লাখ টাকা বা অধিক মূল্য হয় তাহলে প্রতি লাখে ৩০০ টাকা করে বেশি দিতে হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করে বলেন, বিনিময় দলিল করতে ব্যাংক চালানের পরও অতিরিক্ত চার-পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হককে। বণ্টননামা এবং অসিয়ত দলিলের মূল্যের ওপরও অতিরিক্ত ১ শতাংশ হারে ঘুষ নেন তিনি। আবার নকলে তিনি ২-৩ মাস স্বাক্ষর করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ভোগান্তির পোহাতে হয় চরমে।

এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী সাব রেজিস্টার সিরাজুল হকের বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইন কেটে দেয়। তারপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  সোনাইমুড়ী   সাব-রেজিস্ট্রার   অফিস  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close