চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় দাম বাড়লেও কাটেনি তীব্র এলপিজি সংকট। বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার। সরবরাহ না থাকায় বসুন্ধরা, ওমেরা, যমুনা, টোটাল, অরিয়ন, দুবাই-বাংলাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ডিলার পয়েন্ট তালাবদ্ধ রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এ পরিস্থিতি বিরাজ করায় এলপিজি ব্যবহারকারীদের মধ্যে রান্না নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে এর মধ্যে কয়েকজন ডিলার তাদের দোকান ও গোডাউন বন্ধ রেখে সিলিন্ডার অন্যত্র মজুদ করে রাখছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (৭অক্টোবার) সকালে সরজমিনে উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে জীবননগর পৌর বাজারসহ আশপাশের এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনের সময় গ্যাস কিনতে এসে অনেকেই একাধিক দোকান ঘুরেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। আবার কোনো কোনো দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বাজারে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অতিরিক্ত টাকা দিয়েও গ্যাস মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা ।
স্থানীয়রা জানান, এক সপ্তাহ আগেও উপজেলায় ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তখন বাজারে সরবরাহে কোনো সংকট ছিল না। তবে গত সপ্তাহের শুরু থেকে হঠাৎ সরবরাহ কমে যায়। সপ্তাহের শেষ দিকে সংকট আরও তীব্র হয়।
রোববার এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণের আগেই খুচরা বাজারে থাকা কিছু সিলিন্ডার ২০০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এরপর গত চার-পাঁচ দিন ধরে বাজারে এলপিজি প্রায় উধাও হয়ে গেছে। বাড়তি দাম দিয়েও অনেকেই সিলিন্ডার পাচ্ছেন না।
উপজেলার ধোপাখালী গ্রামের বাসিন্দা শিলন জানান, তিনি জি-গ্যাস ব্যবহার করেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে জি-গ্যাসের সরবরাহ নেই। গ্যাসের জন্য তাকে একাধিক দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ শৌখিনতার সহিত বসবাস করেন। সেখানে কাঠ বা খড়ি দিয়ে রান্নার সুযোগ নেই। এলপিজিই একমাত্র ভরসা। বাজারে গ্যাস না থাকায় রান্না নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছি নিম্ন ও মধ্যেবিত্ত পরিবারের মানুষেরা।
স্থানীয় ক্রেতা সজীব বলেন, ‘রান্নার জন্য গ্যাস নিতে এসে কয়েকটি দোকানে ঘুরেছি। কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও ২ হাজার টাকার বেশি চাওয়া হচ্ছে। পরিবারের রান্না-বান্না চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অল্প আয়ে গ্যাস সংকট চরম হওয়ায় পরিজন নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
স্থানীয় এলপিজি ব্যবসায়ী আসাদ বলেন, ‘আমরাও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছি না। সরবরাহ কম থাকায় দোকানে সিলিন্ডার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। দোকানে সেগুলো আছে খালি সিলিন্ডার। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সংকটও কেটে যাবে বলে প্রত্যাশা করছি।’
দুবাই-বাংলা এলপিজির পরিবেশক মতিয়ার রহমান বলেন, ‘সরকারিভাবে প্রতি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়ানো হলেও বাজারে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। সরবরাহ না থাকায় দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে।’
তিনি জানান, বসুন্ধরা, যমুনা ও ওমেরা এলপিজির ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না পরিবেশকেরা।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, ‘এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ ও বিক্রয়মূল্য সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কেউ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের নিয়ম মেনে গ্যাস বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
কেকে/এআই