ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা কিংবা সম্প্রদায়ের পরিচয় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় কোনো কিছুই মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।
সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। সরকারের সিদ্ধান্তে এবারের দুর্গোৎসব আরও আনন্দময় ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে তারা মন্তব্য করেন। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০-২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি থাকছে।
মতবিনিময় সভায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবির কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।’
সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। এ সময় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন তিনি।
পরে ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ৪ কোটি টাকা অনুদানের আবেদন করা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় তা বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। একইভাবে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা চাইলেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই চাহিদার তুলনায় এক কোটি টাকা করে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অনুদান বাড়ানোর জন্য প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
জানা গেছে, বরাদ্দ করা অর্থ হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এ অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, দৈনিক কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়া প্রমুখ।
কেকে/এআই