ব্রাহ্মণবাড়িয়ার-নবীনগরে দিগন্ত বাস সার্ভিসের ভাড়া নির্ধারণে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। একই পরিবহনের প্রায় একই মানের বাসে বিভিন্ন রুটে ভাড়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নবীনগর উপজেলার যাত্রীরা।
যাত্রীদের অভিযোগ, নবীনগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দূরত্ব প্রায় ২৫ হলেও যাত্রীদের নিকট থেকে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৬০ টাকা। অথচ ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কসবার দূরত্ব প্রায় ২৮ কিলোমিটার, ভাড়া ৫০ টাকা। অন্য দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আখাউড়ার দূরত্ব প্রায় ২৪ কিলোমিটার হলেও ভাড়া মাত্র ৩০ টাকা।
নবীনগরের যাত্রীদের প্রশ্ন, প্রায় সমপরিমাণ দূরত্বের ক্ষেত্রে একই পরিবহনের ভাড়ায় এতটা পার্থক্য কেন? যদি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-রাধিকা-নবীনগর সড়কে তুলনামূলকভাবে যানজট কম থাকায় অন্যান্য রুটের তুলনায় সময়ও কম লাগে। এ ছাড়া এসব রুটে চলাচলকারী বাসগুলো গ্যাসচালিত হওয়ায় জ্বালানি খরচের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পার্থক্য থাকার কথা নয় বলে মনে করছেন যাত্রীরা।
নবীনগরের গোপালপুর গ্রামের যাত্রী কামাল মিয়া বলেন, ‘একই মানের বাস, একই জেলার অভ্যন্তরীণ রুট এবং কাছাকাছি দূরত্ব হওয়া সত্ত্বেও শুধু নবীনগর রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।’
একই অভিযোগ ভোলাচং গ্রামের যাত্রী বিজয়ী দাসের। তিনি বলেন, ‘দিগন্ত বাস নবীনগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাড়া তুলনামূলক বেশি নেয়। অথচ তাদের সার্ভিসের মান ভালো না।’
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। একই সঙ্গে দিগন্ত বাস সার্ভিসের ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি যাচাই করে দূরত্ব ও যৌক্তিকতার ভিত্তিতে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন যাত্রীরা।
এ রোডে যাতায়াতকারী যাত্রীদের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ভাড়া বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সকল রুটে যৌক্তিক ও ন্যায্য ভাড়া নিশ্চিত করবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ, ২০২৫ থেকে নবীনগর–রাধিকা–ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর পর্যন্ত ‘দিগন্ত’ পাবলিক বাস সার্ভিস চালু হয়।
কেকে/এআই