মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় মাহিদ (৫) নামে এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শিশুটির মৃত্যু নিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত মাহিদ উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর গ্রামের আল-আমিনের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় প্রতিদিন বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে স্থানীয় স্কুল মাঠে খেলতে যেত মাহিদ। পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে খেলতে গেলে তাকে মারধর করা হতো। এর মধ্যে দুই দফায় সমবয়সীদের হাতে কাঁচি ও ইটের আঘাতে তার মাথায় জখম হয় এবং পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছিল।
শিশুটির মামা নুরুদ্দিনের দাবি, গত ৬ অক্টোবর খেলাধুলার সময় মাহিদের চাচাতো ভাই আরাবি ভাঙা টাইলস দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে মাহিদের মাথা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বুধবার তাকে হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নুরুদ্দিন বলেন, চাচাতো ভাইয়ের মারধরের কারণেই মাহিদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
তবে মাহিদের চাচা আব্দুর রহমান ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, শিশুদের খেলাধুলার সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটনাটি ঘটে। মাহিদ কয়েক দিন ধরেই অসুস্থ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, এর আগে আরও দুটি শিশু মাহিদকে মারধর করেছিল।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বুধবার রাতে পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
কেকে/সাশ