পুলিশের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা বরাবরই অনেক। একটি থানায় অপরাধ ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেমন পুলিশের দায়িত্ব, তেমনি অপরাধ যাতে না ঘটে, সে জন্য আগাম তৎপরতা, সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও পুলিশের দায়িত্বের অংশ। এ সব দায়িত্ব একটি থানায় কতটা কার্যকরভাবে পালিত হচ্ছে, তা অনেকটাই নির্ভর করে থানার নেতৃত্বে থাকা কর্মকর্তার সক্রিয়তা ও দায়িত্ব পালনের ওপর।
তাই একজন ওসির কর্মদক্ষতা বিচার করতে তার দায়িত্বে থাকা সময়ের কাজগুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সরকারি চাকরিতে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, ফলে কে গেলেন আর কে এলেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো দায়িত্বে থাকার সময় একজন কর্মকর্তা কীভাবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করলেন। সেই দৃষ্টিতে কুমিল্লার মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলামের দায়িত্ব পালনও দেখার সুযোগ রয়েছে।
২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর মাসে তিনি মেঘনা থানায় যোগদানের পর থেকে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন। তার দায়িত্বকালে বিভিন্ন মামলায় মাদকসহ নানা অপরাধে জড়িত এ যাবৎ ২৯৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ সব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা জেলার ‘খ’ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন মো. শহীদুল ইসলাম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও সার্বিক নিরাপত্তায় প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ৭ অক্টোবর কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কাছ থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন তিনি।
তবে একজন ওসির কর্মদক্ষতা শুধু কতজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন কিংবা কতটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তা দিয়ে পুরোপুরি বিচার করা যায় না। থানায় আসা মানুষের অভিযোগ কতটা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে, প্রয়োজনের সময় পুলিশ কতটা দ্রুত সাড়া দিচ্ছে, সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে যেতে পারছেন, এ সব বিষয়ও একই সঙ্গে বিবেচনায় আসে।
সেই দৃষ্টিতে মেঘনা থানায় দায়িত্ব পালনের সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান, বাল্যবিবাহ ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে ওসি শহীদুল ইসলামের তৎপরতার পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে পাওয়া স্বীকৃতিও তার দায়িত্ব পালনের একটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে। তবে এ ধরনের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী করতে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতাও প্রয়োজন। কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের হলেও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্ব একা পুলিশের নয়।
সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। মেঘনায় যোগদানের পর থেকেই সেই দায়িত্বকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে যে সম্মাননা পেয়েছি, সেটিকে আমি ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখছি না। এটি মেঘনা থানার সব সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। এ সম্মাননা আমাদের আরও উৎসাহিত করেছে এবং ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক ও আন্তরিক হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, কিশোর অপরাধসহ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধেও আমাদের কাজ চলবে। সাধারণ মানুষ অপরাধের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। মেঘনার মানুষ যেন নিরাপদে থাকতে পারেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতা নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
কেকে/এআই