জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি। উৎসব আনন্দঘন ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
এ বছর বকশীগঞ্জ উপজেলায় মোট ১৭টি মন্দির ও পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বগারচর ইউনিয়নে ৩টি, নিলক্ষিয়া ইউনিয়নে ২টি এবং বকশীগঞ্জ পৌরসভায় ১২টি মন্দির ও পূজামণ্ডপ রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপ বেড়েছে ৩টি।
আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাঅষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোড়ায় এবং প্রস্থান হবে নৌকায়।
দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপে শিল্পীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতার ছাপ থাকে। প্রথমে বাঁশ, খড় ও রশি দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর পাট, ধানের গুঁড়া, পানি ও কাদামাটির সংমিশ্রণে প্রলেপ দিয়ে প্রতিমার আকৃতি দেওয়া হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে অবয়ব ও মুখাবয়ব নিখুঁত করার কাজ শুরু হয়। সবশেষে রঙের কাজ, শাড়ি ও গহনা পরিয়ে দেবী দুর্গাকে দেওয়া হয় পূর্ণাঙ্গ রূপ।
দেবী দুর্গার পাশাপাশি একই প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের প্রতিমা। এ ছাড়া সিংহ, বাঘ, মহিষ, পেঁচা, হাঁস, সর্পসহ বিভিন্ন অনুষঙ্গও তৈরি করা হয়। প্রতিমার কারুকাজ ও সৌন্দর্যের ওপর ভিত্তি করে কারিগরদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। তাই দুর্গাপূজা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সম্প্রীতি, আনন্দ ও মিলনেরও অন্যতম বড় উৎসব। পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপে অঞ্জলি, পূজা-অর্চনা, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন আয়োজন থাকে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে বিভিন্ন বয়সী মানুষ মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন।
বকশীগঞ্জ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু রমেশ চন্দ্র রায় বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে পালনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি, তারা ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগিতা করবেন।”
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, “আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রতিদিন পুলিশের একটি টহলদল প্রতিটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, “দুর্গাপূজার নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিজ নিজ উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, জেনারেটর বা বিকল্প আলোর ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি তহবিল থেকে জিআর চাল বরাদ্দের কথা রয়েছে। বরাদ্দ এলে উপজেলার ১৭টি মণ্ডপে তা বিতরণ করা হবে। আশা করি, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন।”
এদিকে পূজাকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জার কাজ। কোথাও তৈরি হচ্ছে আলোকসজ্জা, আবার কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজানোর কাজ। পূজার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উৎসবের আমেজ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
কেকে/সাশ