যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই।
ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধ শুরু হয়। সংঘাতের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাও রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে রিপাবলিকান দলের প্রতি সমর্থন রয়েছে এমন প্রতি চারজনের একজনও রয়েছেন। সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, নির্বাচনের পর তেলের দাম কমবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।
এদিকে, যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একাধিক প্রস্তাব বিনিময় করেছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না এবং নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও হস্তান্তর করবে না। ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বক্তব্যের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
কেকে/সাশ