বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পেটের ভেতরে বিশেষ কৌশলে বহন করা ৩ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ মো. সাদেক (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ টাকার বেশি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের চিংথোয়াইপাড়া এলাকার গুনগাছতলা চৌরাস্তার মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশির সময় তাকে আটক করা হয়। পরে সোনাইছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়ার পর তার পেট থেকে ৭৬টি পোটলায় মোড়ানো ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাদেক কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮/ই-এর বাসিন্দা। তার বাবার নাম নুর আলম। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো পাইকারি বিক্রির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোনাইছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল গুনগাছতলা চৌরাস্তার মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন সাদেককে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পেটের ভেতরে পোটলায় মোড়ানো ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে তাকে সোনাইছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে খাবার ও পানি খাওয়ানোর পর বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মলত্যাগের মাধ্যমে পোটলাগুলো বের করা হয়। পরে পোটলাগুলো খুলে গণনা করে ৩ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।
পুলিশ আরও জানায়, সাদেকের বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (সিডিএমএস) যাচাই করে আগের দুটি মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। মাদক কারবারি ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ টাকার বেশি। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কেকে/সাশ