গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার টোক ইউনিয়নের উলুসারা গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট সালেহ আহমদের পুকুরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
তার সন্দেহ, কয়েকজন ব্যক্তি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় কাপাসিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
সালেহ আহমদের পুকুরটির আয়তন প্রায় ৭০ শতাংশ। ছয় মাস আগে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা চাষ শুরু করেন তিনি। পোনা কেনা, মাছের খাবার ও পরিচর্যা বাবদ এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। মাছ বড় হলে বিক্রি করে বিনিয়োগের অর্থ তুলে নেওয়ার আশা ছিল তার। কিন্তু পুকুরে মাছের এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুতে সেই প্রত্যাশা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সালেহ আহমদ জানান, শুক্রবার সকালে নিয়মিত মাছের খাবার দিতে পুকুরে গিয়ে পানিতে মাছ ভেসে উঠতে দেখেন। পরে পুকুরে নেমে মাছের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তাঁর সন্দেহ হয়, কেউ পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। তার দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, “সকালে পুকুরে খাবার দিতে গিয়ে দেখি মাছ ভেসে উঠছে। পুকুরে নেমে মাছগুলো দেখে মনে হয়েছে, কেউ বিষ প্রয়োগ করেছে। কয়েকজন লোক এমন কাজ করতে পারে বলে আমার সন্দেহ হচ্ছে। এ ঘটনায় কাপাসিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যাচ্ছি। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জান্নাতুন শাহীন বলেন, “আমাকে ফোনে জানানো হয়েছে, তার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সহযোগিতায় মাছ ও পানি পরীক্ষা করে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, মাছ ও পানির নমুনা পরীক্ষা করা হলে মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যেতে পারে। পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এখন পর্যন্ত পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি। মাছের মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে নমুনা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ দায়েরের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসতে পারে।
প্রায় ছয় মাসের পরিশ্রম ও বিনিয়োগের পর মাছের এমন মৃত্যুতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সালেহ আহমদ। এখন পুকুরের মাছ ও পানির নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
কেকে/সাশ