রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের স্টোর রুমের সিঁড়ির পাশে ধুলাবালি ও পরিত্যক্ত সামগ্রীর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাঁধানো ছবি পড়ে থাকার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ঘটনাটি জানার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে উদ্যোগী হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছবিটি কীভাবে সেখানে এলো, আগে কোথায় সংরক্ষিত ছিল এবং কীভাবে সিঁড়ির পাশে পড়ে রইল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তাও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের স্টোর রুমের সিঁড়ির পাশে মেঝেতে ফ্রেমে বাঁধানো বেগম খালেদা জিয়ার একটি ছবি পড়ে রয়েছে। ছবিটির একাংশ পলিথিনে ঢাকা ছিল। আশপাশে ধুলাবালি, ময়লা-আবর্জনা ও বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রী দেখা যায়। সরকারি কার্যালয়ের ভেতরে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছবি এভাবে পড়ে থাকার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
ছবিটি কার্যালয়ে কীভাবে এসেছে, কে সেখানে রেখেছেন কিংবা আগে এটি কোথায় রাখা ছিল—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোছা. শামসুন নাহারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কীভাবে এলো, জানি না।’
ঘটনাটি সামনে আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার তদন্তের উদ্যোগ নেন। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ, ছবিটির সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের বিষয় এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি সরকারি কার্যালয়ের সিঁড়ির পাশে ধুলাবালি ও পরিত্যক্ত সামগ্রীর মধ্যে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। ছবিটি কীভাবে সেখানে এলো, কারা রেখেছে এবং কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, ‘তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি সরকারি কার্যালয়ে এভাবে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
কেকে/সাশ