কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় ইটভাটার পুরোনো দেয়াল ভেঙে সংস্কারের কাজ করার সময় ধসে পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক। তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পুমদি ইউনিয়নের চরপুমদি গ্রামের মেসার্স মায়ের দোয়া ইটভাটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকেরা হলেন হোসেনপুর উপজেলার দক্ষিণ চরপুমদি গ্রামের মৃত ছফির উদ্দিনের ছেলে গোলাপ মিয়া (৬৩) এবং একই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে উৎপল মিয়া (২৫)। আহতরা হলেন হাদিস মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া ও লোকমান হোসেনের ছেলে আন্নাছ মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও ইট পোড়ানোর মৌসুমের কাজ শেষে ইটভাটার পুরোনো দেয়াল ভেঙে সংস্কার করা হচ্ছিল। শুক্রবার দুপুরে কয়েকজন শ্রমিক ভাটার পুরোনো দেয়াল ভাঙার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় শ্রমিকেরা ভাটার ছাদের ওপর অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ দেয়ালটি ধসে পড়লে গোলাপ মিয়া ও উৎপল মিয়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আহত হন আরও দুই শ্রমিক।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে। আহতদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পাঠানো হয়। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার সময় কাছাকাছি অবস্থানে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী আল আমিন বলেন, “শ্রমিকেরা ইটভাটার দেয়াল সংস্কারের কাজ করছিলেন। হঠাৎ দেয়াল ধসে পড়লে দুই শ্রমিক চাপা পড়ে মারা যান। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সংস্কারকাজের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।”
স্থানীয় বাসিন্দা হামিদ মিয়া বলেন, “দুপুরে হঠাৎ ইটভাটার দেয়াল ধসে পড়ার খবর পাই। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যুর কথা জানতে পারি। এ ঘটনায় আমরা খুবই মর্মাহত। ইটভাটায় কাজ করার সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় আর কারও প্রাণ না যায়।”
নিহত গোলাপ মিয়ার স্বজন আরমান বলেন, “পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি ইটভাটায় কাজ করতেন। কাজ করতে গিয়ে এভাবে তাঁর মৃত্যু হবে, তা কখনো ভাবিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।”
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে মরদেহ দুটি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক। তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেকে/এমএ