মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় জুমআর নামাজের পরপরই এক হৃদয়বিদারক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। মসজিদে শিরনি বিতরণকে কেন্দ্র করে কথার উত্তর দিতে না পারা মুনিম আহমদকে (২৫) নামের নিরীহ বাকপ্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) উপজেলার কন্টিনালা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রাঙ্গণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
আহত মুনিমকে রক্তসংক্রান্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নামাজ শেষে শিরনি বিতরণ নিয়ে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কথা বলতে ও নিজেকে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে না পারা মুনিমের ওপর হঠাৎ করেই চড়াও হয় প্রভাবশালী মহল।
অভিযোগ উঠে, মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এরশাদ আলীর ভাই রশীদ আলী ও তার ছেলে আশরাফুলের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের দল অতর্কিতভাবে মুনিমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের হামলায় রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই অসহায় যুবক।
নিজের বাকপ্রতিবন্ধী সন্তানের এই করুণ অবস্থা দেখে কেঁদে ভাসাচ্ছেন মা খেলনা বেগম। তিনি আকুল কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেটা তো মুখে কোনো কথা বলতে পারে না, কাউকেই তো সে গালি দিতে পারে না! একটা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমার এই অসহায় ছেলেটার ওপর এভাবে অমানবিক অত্যাচার চালানো হলো? আমি এই পাষণ্ডদের কঠিন শাস্তি চাই। বিচার চাইতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিচ্ছি।’
নৃশংস এ ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এরশাদ আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার উত্তর না দিয়ে ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে জুড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবির আহমদ বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ