কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং মৌজায় সরকারি বন বিভাগের মালিকানাধীন মূল্যবান পিএফ জমি অবৈধভাবে বিক্রির চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বন বিভাগ। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এবং উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় আধা বিঘা বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত জায়গায় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে গাছের চারা রোপণ করেছে উখিয়া রেঞ্জ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হলদিয়া বিট অফিসের মাত্র ১০০ মিটার উত্তরে, আদর্শগ্রাম যাতায়াতের রাস্তার পশ্চিম পাশে অবস্থিত বন বিভাগের এই জমিটি স্থানীয় এক চিহ্নিত দালাল ও বিট অফিসের কর্মচারীর যোগসাজশে জালিয়াত চক্রের কাছে মাত্র চার লাখ টাকায় অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বিক্রির পর জমির ওপর থাকা সামাজিক বনায়নের বেশ কিছু মেহগনি ও আকাশমনি গাছও গোপনে কেটে বিক্রি করে দেয় ক্রেতারা।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ও উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জমির চুক্তিপত্রের খসড়া কপি, মাটি কাটার ছবি ও নির্দিষ্ট ম্যাপ সংযুক্ত করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই উখিয়া রেঞ্জ দ্রুত ও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করে। উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বন প্রহরীদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সরকারি ভূমি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করেন। একই সাথে সেখানে সরকারি মালিকানার একটি ‘সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি’ সংবলিত লাল সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং বেদখল হওয়া জমিতে বনায়ন নিশ্চিত করতে নতুন গাছের চারা রোপণ করা হয়।
এ বিষয়ে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, ‘‘সরকারি বনভূমি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। একটি চক্র অবৈধভাবে এই সরকারি জায়গা দখল ও বিক্রির চেষ্টা করছিল। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করি। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে উখিয়া রেঞ্জ বন বিভাগ পুরো জায়গাটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং সরকারি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে বনায়ন ধরে রাখতে আমরা শুক্রবার সকালেই সেখানে নতুন চারা গাছ রোপণ করেছি। বনের জমি দখলকারী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন রক্ষায় আমাদের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
বন বিভাগের এই তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। স্থানীয়রা আশা করছেন, উখিয়া রেঞ্জের এমন জোরালো ভূমিকার কারণে এলাকার অন্যান্য সরকারি বনভূমি গ্রাসকারী ও ভূমিদস্যু আর পার পাবে না।
কেকে/এমএ