বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবির পৃথক অভিযানে ২২ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘুমধুম সীমান্তে বিজিবির অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে বাইশারী বাজার এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ২ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, ঘুমধুম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে উদ্ধার করা হয় আরও ২০ হাজার পিস ইয়াবা। দুই অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য ৬৬ লাখ টাকা।
আর শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাইশারী বাজার এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। পৃথক এ সব অভিযানে কোনো পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাইশারী সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. সিরাজুস সালেহীন এবং বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. মনজুর আহসানের নেতৃত্বে শনিবার যৌথ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বাইশারী বাজার এলাকায় দ্রুতগতিতে চলাচলকারী একটি মোটরসাইকেল সন্দেহজনক মনে হলে সেটিকে থামানোর চেষ্টা করেন অভিযানকারী দলের সদস্যরা।
সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেল চালক সেটি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে মোটরসাইকেলটিতে তল্লাশি চালিয়ে ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মোটরসাইকেলটি ডিসকাভার ১২৫ সিসি মডেলের। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।
বাইশারী সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. সিরাজুস সালেহীন জানান, অভিযানে ইয়াবা ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধার করা আলামত পুলিশের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যায় নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)। ঘুমধুম বিওপির টহলদল সীমান্ত পিলার-৩১ থেকে আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়াপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় মালিকবিহীন ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। বিজিবির উদ্ধার করা এ সব ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য ৬০ লাখ টাকা।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার করা ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও বিজিবি সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক জানান, বাইশারী বাজারে ইয়াবা ও মোটরসাইকেল জব্দের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেল চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কেকে/এআই