অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুতে বলিউডজুড়ে যখন শোক আর শ্রদ্ধার বার্তা তখন তাকে ‘শয়তানের মৃত্যু’ বলে কটাক্ষ করেছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। তার এমন মন্তব্যে নেটদুনিয়ায় ভক্তদের মাঝে বিতর্ক তৈরি করেছে।
২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন তনুশ্রী। নায়িকার সে অভিযোগ কেন্দ্র করেই ২০১৮ সালে ভারতে মি-টু আন্দোলন শুরু হয়।
মৃত্যুর পর নানা পাটেকরকে যখন কিংবদন্তি হিসেবে স্মরণ করছেন অনেকে, তখন তার অতীত টেনে সরব হন তনুশ্রী। একটি ইভেন্টে যোগ দিতে বিমানবন্দরে ছিলেন। সেখান থেকেই ইনস্টাগ্রাম ভিডিও বার্তায় নায়িকা বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমগুলো এভিল ডেভিডকে নিয়ে ব্যস্ত। আমি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেবো ভেবে পাচ্ছি না। তবে হ্যাঁ, পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইলো। কিন্তু…।’
অভিনেত্রীর এমন মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক। তবে সমালোচনায় দমেননি তনুশ্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচকদের কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তার প্রশ্ন ,‘কেউ মারা গেলেই কি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আর ভুক্তভোগীর যন্ত্রণা মুছে যায়?’
তনুশ্রীর দাবি, ২০০৮ সালে নানা পাটেকরের কাছে হেনস্তার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছেন। ২০১৯ সালে মুম্বাই পুলিশ পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে যখন নানা পাটেকরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। নানা পাটেকর এটি নিজের প্রভাব খাটিয়ে এবং মূল সাক্ষীদের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক মামলাটি বন্ধ করিয়েছিলেন। যে কারণে আদালত তাকে নির্দোষ প্রমাণ করেনি।
২০২০ সালের পর নানার মাধ্যমে তনুশ্রীকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ অভিনেত্রীর। জীবনের কঠিন সময়ের জন্য দায়ী মানুষটার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে তাই নানা পাটেকরকে ‘শয়তান’ ও ‘মহাশয়তান’ বলেও আক্রমণ করেন তনুশ্রী দত্ত।
যদিও তনুশ্রীর এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (এআইসিডব্লিউএ)। সংস্থাটির সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্তের ভাষ্য, কারও মৃত্যুর পর তাকে ‘শয়তান’ বলে আক্রমণ করা আপত্তিকর, অসংবেদনশীল ও লজ্জাজনক।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
কেকে/এমএ