একেএম রহমত উল্লাহ কলেজের গভর্নিং বডির দাতা সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিনুর ইসলাম তুহিন। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা অতুলনীয়। একজন সমাজসেবক ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী হিসেবে বেরাইদের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে নেওয়া এবং একেএম রহমত উল্লাহ কলেজসহ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও মানসম্মত হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তার লক্ষ্য বেরাইদের যোগ্য শিক্ষার্থীদের দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। শিক্ষা ভাবনা, শিক্ষার্থী-শিক্ষকবান্ধব কার্যক্রম, বেরাইদের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ভূমিকাসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মো. ওয়ালিয়ার রহমান।
খোলা কাগজ : শিক্ষা নিয়ে আপনার ভাবনা কী? বেরাইদের শিক্ষা উন্নয়নকে আপনি কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছেন?
তুহিনুর ইসলাম তুহিন : একটি জাতি বা সমাজের প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষা ছাড়া কোনো এলাকার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমি মনে করি, বেরাইদের প্রতিটি পরিবারের সন্তান যেন মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমাদের স্বপ্ন হচ্ছে— বেরাইদ থেকে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিকেল কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাবে। শিক্ষা শুধু একটি সার্টিফিকেট অর্জনের বিষয় নয়; শিক্ষা মানুষের চিন্তা, বিবেক, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে।
খোলা কাগজ : একেএম রহমত উল্লাহ কলেজের গভর্নিং বডির দাতা সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির জন্য আপনার বিশেষ পরিকল্পনা কী?
তুহিনুর ইসলাম তুহিন : কলেজটি আমাদের এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমার প্রত্যাশা, এটি শুধু একটি কলেজ হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার দিক থেকে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে। শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর পরিবেশ, আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি ও উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি করতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চাই।
খোলা কাগজ : শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি আপনি আর কী ধরনের পরিবর্তন দেখতে চান?
তুহিনুর ইসলাম তুহিন : শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই একজন শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ সফল হয় না। তাকে ভালো মানুষ হতে হবে। সততা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দেশ-সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। আমরা চাই, একেএম রহমত উল্লাহ কলেজের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবে।
খোলা কাগজ : শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেমন সম্পর্ক থাকা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
তুহিনুর ইসলাম তুহিন : শিক্ষক হচ্ছেন শিক্ষার্থীর পথপ্রদর্শক। তাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার। শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো শিক্ষকদের শুনতে হবে, আবার শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। একটি সুন্দর শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কই একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
খোলা কাগজ : শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসমুখী ও পড়াশোনায় মনোযোগী করতে কী করা দরকার?
তুহিনুর ইসলাম তুহিন : শিক্ষার্থীদের শুধু নিয়মের মধ্যে রাখলেই হবে না; তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে। নিয়মিত ক্লাস, কুইজ, মূল্যায়ন, আলোচনা, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় করা যেতে পারে। পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন। এ জন্য আমরা সর্বদা কাজ করছি। আমি মনে করি শিক্ষকরা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন। তাই তাদের মর্যাদা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল ও আন্তরিক থাকাও জরুরি। আমি আশা করি আমাদের শিক্ষকরা নিজেদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবেন।
খোলা কাগজ : দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার কোনো বিশেষ ভাবনা আছে?
তুহিনুর ইসলাম তুহিন : অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষা থেমে যাওয়া উচিত নয়। যারা মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা সহায়তা, বৃত্তি ও অন্যান্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আমরা চাই, যোগ্যতা যেন অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কাছে পরাজিত না হয়। বর্তমান সরকারও শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
খোলা কাগজ : শিক্ষা উন্নয়নে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো সমাজকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়?
তুহিনুর ইসলাম তুহিন : আমি মনে করি, একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে করা সবকিছু করা সম্ভব নয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব— সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা যদি একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করি, তাহলে শুধু বেরাইদকে নয়, পুরো দেশকে শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। আমাদের প্রত্যাশা, শিক্ষিত বেরাইদই হবে সমৃদ্ধ বেরাইদের ভিত্তি।
খোলা কাগজ : আপনি একজন রাজনীতিবিদ। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণ কী?
তুহিনুর ইসলাম তুহিন : রাজনীতি মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার একটি ক্ষেত্র। মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও প্রয়োজন কাছ থেকে জানার সুযোগ রাজনীতির মাধ্যমে পাওয়া যায়। আর শিক্ষা হচ্ছে মানুষের জীবন পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যতুকু সম্ভব ভূমিকা রাখা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
খোলা কাগজ : আপনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো রাজনৈতিক প্রভাব পড়ুক— এটি কি আপনি চান?
তুহিনুর ইসলাম তুহিন : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষার পরিবেশ যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেটি সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করবে, নিজেদের ভবিষ্যৎ তৈরি করবে— এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, নিরাপদ পরিবেশ ও শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম সবার কাছে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
খোলা কাগজ : আগামী দিনের বেরাইদ এবং একেএম রহমত উল্লাহ কলেজ নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী?
তুহিনুর ইসলাম তুহিন : আমার স্বপ্ন একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক বেরাইদ। আমি চাই, এখানকার শিক্ষার্থীরা দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করবে এবং ভবিষ্যতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। একেএম রহমত উল্লাহ কলেজও শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার দিক থেকে একটি অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে— এটাই প্রত্যাশা। আমরা সবাই মিলে কাজ করলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
খোলা কাগজ : একেএম রহমত উল্লাহ কলেজকে সরকারি করার কোনো উদ্যোগ বা ইচ্ছা আছে কি? এ বিষয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
তুহিনুর ইসলাম তুহিন : একেএম রহমত উল্লাহ কলেজকে সরকারি করার বিষয়টি নিয়ে আমাদের আন্তরিক আগ্রহ ও প্রত্যাশা রয়েছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা, যোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমি বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা থাকলে একদিন এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে। আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি কলেজকে এগিয়ে নেওয়া নয়, বরং বেরাইদের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার আরও বিস্তৃত সুযোগ তৈরি করা। আমি আশাবাদী— সবার সহযোগিতায় একেএম রহমত উল্লাহ কলেজ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এলাকার শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবে এবং সরকারি কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার স্বপ্নও একদিন পূরণ হবে।
খোলা কাগজ : মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
তুহিনুর ইসলাম তুহিন : আপনাকেও ধন্যবাদ।
কেকে/এমএ