ধর্মীয় প্রীতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রোকন উদ্দিন বাবুল বলেছেন, ‘আমাদের দেশে আবহমানকাল থেকে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে বসবাস করে আসছে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই নীতিই আমাদের জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি।’
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে বরাদ্দপ্রাপ্ত (জিআর) চালের চালের বরাদ্দপত্র (ডিও) বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য অনুষ্ঠানে রোকন উদ্দিন বাবুল আরও বলেন, ‘সরকার সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। উৎসব-পার্বণ কেবল কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা সার্বজনীন আনন্দের খোরাক জোগায়। আমরা বাঙালি, সব ধর্মের লোক একসাথে বসবাস করে আসছি। এটি বিগত দিনের ইতিহাস, কাজেই এই দেশ হল সম্প্রদায় সাম্প্রদায়িকের দেশ। এই দেশে কোন সম্প্রদায় স্প্রাদায়িক নেই, ধর্ম যার উৎসব সবার। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দুর্গোৎসব শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নয়, এটি এখন আমাদের সার্বজনীন সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।’
‘শারদীয় দুর্গোৎসবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখব এবং এই উৎসবে সবাই সহযোগিতা করব যাতে কোন আইনশৃংখলার অবনতি না হয়।’
যেকোনো ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজাগ থেকে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে বাবুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্গাপূজা নস্যাৎ করতে নানা ষড়যন্ত্রে করেছিল। সমাজের এক শ্রেণির লোক আছে, যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে। কাজেই আমরা বিষয়ে সজাগ থাকব, এই ধর্ম নিয়ে যাতে কেউ রাজনীতি করে অপশক্তি সৃষ্টি করতে না পারে।’
যেকোনো ধরনের উসকানি বা গুজব প্রতিহত করতে পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
‘বিগত সরকারের আমলে আপনারা কম বরাদ্দ পেয়েছেন, আপনারা আমাদের সরকারকে সহযোগিতা করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশি বরাদ্দ করেছেন। বিগত ১৭ বছরে যা পাননি এই সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাবেন।’
সরকারের পাশে থেকে উন্নয়নমূলক কাজ করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন বাবুল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হকের সঞ্চালনে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হবি, পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল ইসলাম ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামী পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি আলমগীর বাদশাহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইফতেখার আহমেদ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি পূর্ণ চন্দ্র বর্মন, বর্তমান সভাপতি এস নীল কমল রায়, সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ ও উপজেলার ১১৭টি পূজা মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ১১৭টি মন্দিরে প্রতি ৬০০ কেজি করে মোট ৭০ মেট্রিক টন (জিআর) চাল দেওযা হয়।
কেকে/এমএ