ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আড়াই বছরের মরিয়ম নামের শিশুর মৃত্যুর হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর কড়াইতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানকে অবরুদ্ধ করে মারধর করে। পরে থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাইনম্যানকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ এবং কিছুক্ষণ পর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম নিশীথ কুমার কর্মকার তিনজন লাইনম্যান নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। লাইনম্যান ঘরের ভেতরে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তখন হট্টগোল শুরু হয়। পুলিশ সদস্যরা লাইনম্যানদের আনতে গেলে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন। এতে লাইনম্যানরা আহত হলেও বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে স্থানীয়দের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
নিহতের নানা কারী আব্দুর রহমান জানান, গত ৩ অক্টোবর বিকালে রঘুনাথপুর এলাকার স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান রফিকুল ইসলামের ছেলে আবু নাঈম কড়ইতলা এলাকার একটি মক্তবে নতুন মিটারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঐ মিটারের আর্থিং রডের সংস্পর্শে এসে মরিয়ম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে মুছলেম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। মুসলেম উদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা দাবি, একজন ইলেকট্রিশিয়ানের হাতে কেন মিটার থাকবে? রফিকুলের ইলেকট্রিশিয়ানের সরকারি নিবন্ধন রয়েছে কি না? রফিকুল তার একজন অপ্রাপ্ত ছেলেকে দিয়ে সংযোগ দিতে নির্দেশ দিল তা খতিয়ে দেখে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় সেলিম মিয়া জানান, নিহত মরিয়মের বাবা রাজিব মোল্লা ও মা নাছিমা খাতুন ভালুকার নিঝুরী এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ছোটবেলা থেকেই মরিয়ম তার নানা-নানির সঙ্গে রঘুনাথপুর গ্রামে থাকত।
নিশীথ কুমার কর্মকার বলেন, ‘একটি প্রাণের কোনো কিছু বিনিময় হয় না। শিশুটির মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্খিত। এ ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারও অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার লাইনম্যান তিনজন সুস্থ আছে।’
কেকে/এআই