নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কাঞ্চন ভারত চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক কাওছার আহমেদের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেওয়ার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত কিছু কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে ওই শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশট অনুযায়ী, ‘Md. Kawsar Ahmmed’ নামের একটি মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট থেকে এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেওয়ার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। স্ক্রিনশটে শিক্ষককে লিখতে দেখা যায়, “তুই যদি আমার সাথে প্রেম করছ,, তবে তোরে পরিক্ষায় ভালো মার্কস্ দিব,,”। জবাবে ছাত্রীটি লেখে, “আমার ভালো মার্কসের দরকার নাই,,”। এরপর ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়, “যদি তুই আমারে রিজেক্ট করছ,, তবে তোরে পরিক্ষার খাতায় ভালো মার্কস দিবো না,,”।
এ ছাড়া, ছাত্রীকে একান্তে সময় কাটানোর প্রস্তাব দেওয়া এবং বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের কাছে জানাতে চাইলে হুমকিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে, গত ১৫ অক্টোবর বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে প্রথম বেঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষক কাওছার আহমেদ এক ছাত্রীকে শাসন করেন বলে জানা গেছে।
এরপর রোববার (১৮ অক্টোবর) কাঞ্চন বাজার এলাকায় শিক্ষক কাওছার আহমেদকে পেয়ে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, এরপর ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কেকে/সাশ