সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হচ্ছে আজ বিজয়া দশমীতে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নেবেন দেবী দুর্গা। পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব আর ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পর পূজামণ্ডপগুলোতে এখন বিরাজ করছে বিদায়ের আবহ। ভক্তদের মনে আনন্দের পাশাপাশি প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর বিষাদও ছুঁয়ে যাচ্ছে।
এর আগে মহানবমীতে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। সকাল থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে চলে পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি প্রদান ও ভোগ নিবেদন। সন্ধ্যায় আরতি, ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও শঙ্খধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপগুলো। নবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেবী দুর্গার বিদায়ের ক্ষণ ঘনিয়ে আসায় ভক্তদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ফরিদপুর সদর, বোয়ালমারী, মধুখালী, আলফাডাঙ্গা, সালথা, নগরকান্দা ও ভাঙ্গাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, ধর্মীয় রীতি ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসব উদযাপন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সকাল থেকেই মণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা ছিল। বিকেলের দিকে বাড়তে থাকে ভিড়।
বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন পোশাকে সেজে তারা মা-বাবার সঙ্গে পূজামণ্ডপে আসে। পূজা দর্শন শেষে মণ্ডপের আশপাশে বসা অস্থায়ী দোকান থেকে বাহারি খাবার ও বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটায় মেতে ওঠে অনেকে।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপগুলো সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন তোরণ। বিভিন্ন মণ্ডপে আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠানমালার। ঢাক-ঢোল, কাঁসর, ঘণ্টা ও শঙ্খধ্বনিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।
দুর্গাপূজার শেষ দিনে পূজা-অর্চনা, সিঁদুর খেলা ও বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নেন ভক্তরা। বিসর্জনের পর একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে বিজয়ার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন তাঁরা।
হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস ও শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, মহানবমীতে দেবী দুর্গার বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন মণ্ডপে নীল অপরাজিতা ফুল, বেলপাতা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে পূজা-অর্চনা করা হয়। যজ্ঞের মাধ্যমে দেবীর উদ্দেশে আহুতি নিবেদন করেন পুরোহিতরা। নবমীর পূজা শেষে দেবীর আরাধনায় অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভশক্তির প্রতিষ্ঠা কামনা করেন ভক্তরা।
শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ উৎসব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।
মন্দিরে মন্দিরে প্রার্থনা, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দুর্গোৎসব হয়ে ওঠে সর্বজনীন আনন্দের উপলক্ষ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করে।
আজ বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে গিয়ে ভক্তদের কণ্ঠে ধ্বনিত হবে আগামী বছর আবার ফিরে আসার আকুল প্রত্যাশা—‘আসছে বছর আবার হবে’।
কেকে/সাশ