নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের দেলিয়াই বাজারে ভাগিনার সঙ্গে এক মোটরসাইকেল চালকের বিরোধের জেরে সাংবাদিক এস কে সৌরভের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাকে মারধর এবং তাকে ও তার ভাগিনাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সৌরভ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দেলিয়াই বাজারের মধ্যবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এস কে সৌরভ এসএ টিভির সাবেক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে অনলাইন ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার ভাগিনা মেহেদী হাসান আবেদ ওমানপ্রবাসী।
সৌরভের বক্তব্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে দেলিয়াই বাজারের সড়ক দিয়ে হাঁটার সময় মেহেদী হাসানের গায়ে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল লাগে। এ নিয়ে মোটরসাইকেল চালকের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সৌরভসহ স্থানীয় কয়েকজন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে মোটরসাইকেল চালক মেহেদী হাসানের মাকে উদ্দেশ করে গালিগালাজ করেন এবং তাকে মারতে উদ্যত হন। এতে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে স্থানীয় লোকজন তাদের আলাদা করে দেন। একই সঙ্গে মেহেদী হাসানকে বাড়িতে চলে যেতে বলা হয়।
এস কে সৌরভ জানান, বিরোধের সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি মোটরসাইকেল চালককে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি তার ওপরও চড়াও হন এবং ধাক্কা দেন। এ সময় নিজের প্রভাব রয়েছে দাবি করে তার ভাগিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সৌরভের ভাষ্য, এর কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেল চালক ফোন করে তার সহযোগীদের বাজারে আসতে বলেন। অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে মেহেদী হাসানকে খুঁজতে থাকেন। তাকে না পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে সৌরভের গতিরোধ করেন ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল। এরপর তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয় এবং তাঁকে ও তাঁর ভাগিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার আশ্বাস দিলেও হামলাকারীরা তাকে মারধর করতে করতে বাজারের দিকে নিয়ে যান। পরে তার চাচাতো ভাই আবির তাকে নিজের দোকানের ভেতরে নিয়ে বসিয়ে রাখেন। সেখানেও হামলাকারীরা আবার আক্রমণের চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্য, পরিচিতজন ও স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় তিনি তাদের হাত থেকে রক্ষা পান।
ঘটনার পর বাড়ির পেছনের এলাকার একটি ডিসপেন্সারিতে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ নেন সৌরভ। বর্তমানে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন।
সৌরভের দাবি, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশের বয়স ২০ বছরের নিচে। স্থানীয় কয়েকজনের বক্তব্যের বরাত দিয়ে তিনি তাদের অনেককে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলেও উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে থানায় গিয়ে জিডি করেন এস কে সৌরভ। এতে ঘটনার তদন্ত, সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
কেকে/সাশ