বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● বিজয়া দশমী আজ, মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর      ● চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর      ● এ বছর ৪০ লাখ কৃষক পাবেন কৃষি কার্ড : প্রধানমন্ত্রী      ● রাজশাহীতে ৩৮৯৭০ আখচাষিকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী      ● হামে শিশু মৃত্যু ১২০০ ছাড়াল      ● ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৩৬৬      ● ২৬-২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ার প্রত্যাশা      
জাতীয়
গ্রামীণ সড়কেই বেশি প্রাণহানি
সাড়ে ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭৯৬৩ শিশু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম আপডেট: ২১.১০.২০২৬ ১২:৩৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে গ্রামীণ সড়কে। বসতবাড়ির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া এসব সড়কে যানবাহন চলাচলে নিয়ম মানার প্রবণতা কম। চালকদের বেপরোয়া মনোভাব ও শিশুদের অসচেতনতাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে ৭ হাজার ৯৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৭১৩ শিশু মারা গেছে গ্রামীণ সড়কে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের ৩৪ দশমিক ০৭ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে গ্রামীণ সড়কে। আঞ্চলিক সড়কে মারা গেছে ২ হাজার ৮২ শিশু। মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশু নিহত হয়েছে। তথ্য বলছে, শহরের তুলনায় গ্রামীণ সড়কেই শিশু মৃত্যুর ঘটনা বেশি।

বসতবাড়ির পাশের সড়কেই বেশি ঝুঁকি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামীণ সড়কের বেশির ভাগই বসতবাড়ির পাশ দিয়ে গেছে। এসব সড়কে যানবাহন চলাচলে নিয়ম মানার প্রবণতা কম। সড়ক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও থাকে না। পাশাপাশি, শিশুদের মধ্যে নিরাপদে সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে চলাচল ও খেলাধুলার সময় তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলার সময় ৯৬২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মোট শিশু মৃত্যুর ১২ দশমিক ০৮ শতাংশ এ কারণে ঘটেছে। অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ৫১৩ শিশু। মোট মৃত্যুর ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশ ঘটেছে এ সময়ে।

মোটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলারে ঝুঁকি বেশি

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের মধ্যে ২ হাজার ৯৫৮ জন মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ছিল। মোট মৃত্যুর ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ এ শ্রেণির। বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত হয়েছে ২ হাজার ১৯৩ শিশু। আর সড়ক পারাপার ও রাস্তায় হাঁটার সময় যানবাহনের ধাক্কায় মারা গেছে ২ হাজার ৮১২ শিশু।

পথচারী শিশুদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে থ্রি-হুইলারের সংশ্লিষ্টতা বেশি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অটোরিকশা, নসিমন ও ভটভটির ধাক্কায় ১ হাজার ২৭১ শিশু নিহত হয়েছে। বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের মতো ভারী যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় মারা গেছে আরও ১ হাজার ১২৬ শিশু।

বিকেলে বেশি শিশুর মৃত্যু 

সময়ভিত্তিক হিসাবে বিকেলে সবচেয়ে বেশি শিশু মারা গেছে। এ সময়ে নিহত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৪ শিশু, যা মোট মৃত্যুর ৩৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। সকালে মারা গেছে ২ হাজার ১৬৮ শিশু। দুপুরে এ সংখ্যা ১ হাজার ৮১৩।

বয়সভিত্তিক হিসাবে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বয়সের ৩ হাজার ৫৪৭ শিশু-কিশোর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ শিশু এবং শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ১ হাজার ৫৩২ শিশু মারা গেছে।

শিশুবান্ধব সড়কব্যবস্থার তাগিদ 

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ। নিরাপদে সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতার অভাবও রয়েছে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের যানবাহন চালানোও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের চিকিৎসা নিয়েও অনেক পরিবারকে সংকটে পড়তে হয়। উপযুক্ত চিকিৎসা পাওয়া এবং চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে গ্রামীণ সড়কসহ সব ধরনের সড়ক নিরাপদ করার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানো এবং অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসেবা বাড়ানো, চিকিৎসার জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়কের অব্যবস্থাপনা ও অসচেতনতার কারণে প্রতিনিয়ত শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছে। প্রতিটি শিশুই সম্ভাবনাময়। তাই তাদের নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়। এ জন্য সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।



কেকে/সাশ 


আরও সংবাদ   বিষয়:  সড়ক দুর্ঘটনা   নিহত   শিশু  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close