কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে অসুস্থ বড় বোনের চিকিৎসা ও দেখাশোনা করতে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা স্বামীহারা খোশনাহার ও তার শারীরিক প্রতিবন্ধী বোন ঝুমা আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম।
তাদের দুর্দশার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে বাড়িতে গিয়ে দুই বোনের খোঁজখবর নেন তিনি। এ সময় খোশনাহারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন চেয়ারম্যান।
চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন অসহায় দুই বোন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তাদের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের বাদে শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা ঝুমা আক্তার (৩৩) ও তার ছোট বোন খোশনাহার (২৯)। শারীরিক প্রতিবন্ধী ঝুমা ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। গত চার মাস ধরে তার পায়ে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়ে পচন ধরেছে। গত এক মাস ধরে চোখেও দেখতে পাচ্ছেন না তিনি। এমন পরিস্থিতিতে অসুস্থ বোনের সেবা-যত্নের পুরো দায়িত্ব এসে পড়েছে স্বামীহারা খোশনাহারের ওপর।
অভাবের সংসারে দুবেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে বোনের চিকিৎসা, ইনসুলিন ও অন্যান্য ওষুধের খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন মানুষের বাড়িতে কাজ করে দুই বোনের খাবার ও চিকিৎসার খরচ জোগানোর চেষ্টা করতেন খোশনাহার। কিন্তু বড় বোনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এখন আর নিয়মিত কাজে যেতে পারছেন না তিনি।
খোশনাহার জানায়, ইনসুলিনসহ বিভিন্ন ওষুধ কিনতে প্রতিদিন অন্তত ১ হাজার ২০০ টাকা প্রয়োজন। অথচ নির্ভরযোগ্য আয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসা ও খাবারের খরচ জোগাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।
এর আগে মঙ্গলবার দৈনিক খোলা কাগজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দুই বোনের মানবেতর জীবনযাপনের খবর প্রকাশিত হয়। বিষয়টি চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েমের নজরে এলে তিনি তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
প্রতিবেশী মোহাম্মদ জালাল মিয়া বলেন, “দুই বোন দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সংবাদ প্রকাশের পর চেয়ারম্যান তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা তাঁদের চিকিৎসা ও জীবনযাপনে স্থায়ী সহায়তার দাবি জানাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, “অর্থাভাবে দুই বোনের চিকিৎসা ও খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। চেয়ারম্যানের এই সহযোগিতা তাঁদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। আমরা চাই, তাঁদের পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি অন্যরাও এগিয়ে আসুন।”
খোশনাহার বলেন, “আমার অসুস্থ বোনকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। নিজের কোনো আয়ের ব্যবস্থা নেই। বোনের চিকিৎসা, ওষুধ ও খাবারের খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সংবাদ প্রকাশের পর চেয়ারম্যান সাহেব আমাদের বাড়িতে এসে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এতে আমরা কিছুটা উপকৃত হয়েছি। তাঁর এই সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, “গতকাল আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমি আমার সাধ্যমতো আর্থিক সহায়তা দিয়ে এসেছি। ইউএনও স্যারেরও সেখানে যাওয়ার কথা ছিল, তবে হয়তো পূজার ব্যস্ততার কারণে তিনি যেতে পারেননি। আজ বুধবার আমি নিজে গিয়ে তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছি। ঝুমা আক্তার প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এ ছাড়া সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সুযোগ থাকলে ইনশাআল্লাহ, তাকে দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। পাশাপাশি আমার পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, সবকিছুতেই তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”
কেকে/সাশ