মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সিএনজিচালকের বাড়িতে চুরির ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার, দুটি মুঠোফোন এবং চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
বড়লেখা থানা সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকার বাসিন্দা সিএনজিচালক জসিম উদ্দিন ঘরে তালা দিয়ে গ্যাস আনতে বাইরে যান। এ সুযোগে চোরেরা ঘরের পেছনের জানালার সিটকিনি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওয়ারড্রপে রাখা তাঁর ভাবির স্বর্ণের গলার হার, কানের দুল ও দুটি মুঠোফোন নিয়ে যায়। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভুক্তভোগী বড়লেখা থানায় দণ্ডবিধির ৪৫৭ ও ৩৮০ ধারায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম, এসআই অলিয়ার রহমান, এএসআই নজরুল ইসলাম বাবুসহ পুলিশের একটি দল তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বড়লেখার দক্ষিণভাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে জিল্লুর মিয়া (২৬), মনির হোসেন (৩৩) ও আব্দুল আহাদকে (৪৪) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে পারভেজ আহমদকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে চুরি যাওয়া দুটি মুঠোফোন ও স্বর্ণ বিক্রির ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে পারভেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার সহযোগী সুমন আহমদকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানার লালদিঘিরপাড় এলাকার রহমান ম্যানশনে অবস্থিত পুষ্পা জুয়েলার্সে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে সাইদুর রহমানকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, সাইদুর রহমানের হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া দুটি কানের দুল ও একটি স্বর্ণের গলার হার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ২ ভরি ১১ আনা ৯ রতি।
কেকে/সাশ
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) তাঁদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।