সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য বা নিপীড়ন গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমান।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। এসব অধিকার বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নিজ নিজ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারা দেশের বড় অর্জন। পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান জাতীয় শক্তির অন্যতম ভিত্তি। যেকোনো পরিস্থিতিতে এ ঐক্য ধরে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজে বিভেদ তৈরির চেষ্টা দেখা যায়। এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করেছে। দীর্ঘকাল ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের সঙ্গে বসবাস করে আসছে।
বিজয়া দশমীর তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এ উৎসব অশুভ শক্তির পরাজয় এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের বিজয়ের বার্তা বহন করে। ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ যেন বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ পরিবেশে ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা। পরে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/সাশ