কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে দলীয় পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের পর এবার আরও সাড়ে আট লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নতুন অভিযোগে চন্দনপুর ও লুটেরচর ইউনিয়ন বিএনপির দুই নেতার কাছ থেকে যথাক্রমে সাড়ে তিন লাখ ও পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গত রোববার (১৮ অক্টোবর) কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেমের কাছে এ বিষয়ে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দেন চন্দনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম সরকার ও লুটেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেলিম সরকারের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা এবং বাহাউদ্দীনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছেন রমিজ উদ্দিন লন্ডনী। বাহাউদ্দীনের অভিযোগে অর্থ লেনদেনের ঘটনায় মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুনের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, লেনদেনের বিষয়ে হুমায়ুন অবগত থাকলেও বর্তমানে তিনি তা স্বীকার করছেন না।
এর আগে ভাওরখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক পদ দেওয়ার কথা বলে মোসলেম মোল্লার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ও তিনটি খাসি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেমের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মোসলেম মোল্লা।
পরদিন মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত একটি অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে ওই রাতেই রমিজ উদ্দিন লন্ডনীকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করতে বুধবার (২১ অক্টোবর) তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা বিএনপি। কমিটির সদস্যরা হলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম বাবু ও ওসমান গণি ভূঁইয়া। তদন্ত-সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত হুমায়ুন ওমরা পালনে সৌদি আরবে যাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের ফলাফল এখনো জানা যায়নি।
কেকে/সাশ