গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও জনবহুল এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দলবেঁধে কুকুরের ঘোরাফেরা ও পথচারীদের তাড়া করার ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপদে চলাচল নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে একাধিক কুকুরকে দলবদ্ধভাবে ঘুরতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রিকশা, সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচলের সময় কুকুরগুলো কখনো কখনো তেড়ে আসে। এতে চালক ও পথচারীরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে চলাচলের সময় বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, সড়কে কুকুরের এমন বিচরণ শিশুদের স্কুলে যাওয়া-আসা এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাচলে উদ্বেগ তৈরি করছে। কুকুরের তাড়া খেয়ে কেউ ভারসাম্য হারালে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধে নিয়মিত কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। তাদের মতে, কুকুরের টিকাদান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, সমস্যাটিকে শুধু কুকুর নিয়ন্ত্রণের বিষয় হিসেবে না দেখে জননিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ এবং নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
বীর উজলী বাজারের পল্লী চিকিৎসক মনির হোসেন জানান, এলাকায় কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে প্রতিনিয়তই অনেকে ভ্যাকসিন নিতে আসছেন। তাদের মধ্যে অনেকের শরীরেই কামড়ের কারণে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে। বেওয়ারিশ কুকুরের এমন উপদ্রব জনমনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কুকুরের আক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এমকেএম আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, বেওয়ারিশ কুকুরের মধ্যে জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকি থাকে। কামড় বা আচড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা না নিলে জলাতঙ্ক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আবগত আছেন, আশাকরি বেওয়ারিশ ককুরকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকায় বিশেষজ্ঞরা আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।
কাপাসিয়ার বাসিন্দারা বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কেকে/এআই