চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় এক কাভার্ড ভ্যানচালককে অচেতন অবস্থায় সড়কের পাশে ফেলে রেখে ১৩ টন চিনিসহ গাড়িটি ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। লুট হওয়া চিনির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্থানীয় সড়কের পাশ থেকে চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া চালকের নাম আলমগীর (৪৫)। তিনি চাঁদপুরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছেলে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে আবুল কালাম নামে এক কাভার্ড ভ্যানচালক তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আবুল কালাম জানান, সড়কের পাশে আলমগীরকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি চালানোর সুবাদে আলমগীরের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শামা জানান, অচেতন অবস্থায় চালককে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার শরীরে চেতনানাশক কোনো পদার্থ প্রবেশ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জ্ঞান ফিরতে সময় লাগতে পারে।
এ দিকে ছিনতাইয়ের শিকার কাভার্ডভ্যানটির মালিক জাহিদ ট্রেড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে গাড়িটি মইজ্যারটেক এলাকায় ছিল। ওই সময় চালক গাড়ির কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কথা তাকে জানিয়েছিলেন। পরদিন সকাল ৯টার দিকে চালককে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকার খবর পান তিনি।
জাকির হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেঘনা কোম্পানির চিনি নিয়ে কাভার্ডভ্যানটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে নগরের নাসিরাবাদ এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে ১৩ টন চিনি সরবরাহ করা হয়। এরপর আরও ১৫ টন চিনি নিয়ে গাড়িটি পটিয়ার দিকে রওনা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে ১৩ টন চিনিসহ কাভার্ডভ্যানটি ছিনতাই হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে চালককে কীভাবে অচেতন করা হয়েছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যানটি কোথায় রয়েছে—এ সব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, এ ঘটনায় এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ ঘটনার খবর পেয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেকে/এআই