ইঞ্জিন বিকল হয়ে দীর্ঘ সময় কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে আটকে থাকার পর অবশেষে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস।
বুধবার (২১ অক্টোবর) নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পর রাত ৭টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে যেতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। অনেকে ট্রেন ছাড়ার অনিশ্চয়তায় বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যে রওনা হন।
রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকাল ৪টায় ঢাকার উদ্দেশে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রা করার কথা ছিল। তবে যাত্রা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। এতে নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি স্টেশন ছাড়তে পারেনি। পরে আখাউড়া থেকে বিকল্প ইঞ্জিন আনার ব্যবস্থা করা হয়। বিকল্প ইঞ্জিন পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শেষে রাত ৭টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
এদিকে দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়। বিশেষ করে যারা জরুরি কাজে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠেছিলেন, তাদের পড়তে হয় বাড়তি বিড়ম্বনায়। কখন ট্রেন ছাড়বে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অনেক যাত্রী বিকল্প পরিবহনের খোঁজ করেন।
যাত্রী আনোয়ার ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর আশায় ট্রেনে উঠেছিলাম। কিন্তু ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় দীর্ঘ সময় স্টেশনে বসে থাকতে হয়েছে। ট্রেন কখন ছাড়বে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলাম। এভাবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।’
আরেক যাত্রী শহীদ মিয়া বলেন, ‘আমাদের অনেকেরই জরুরি কাজ রয়েছে। ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেলে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হতো। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় পরিকল্পনা অনুযায়ী চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচিত, এ ধরনের সমস্যায় যাত্রীদের দ্রুত তথ্য দেওয়া এবং বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।’
কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেনটি নির্ধারিত সময়েই স্টেশনে পৌঁছেছিল। বিকাল ৪টা ১৬ মিনিটে ট্রেনটির ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও যাত্রা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে সমস্যা সমাধানে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ইঞ্জিন আনা হয়। ইঞ্জিনটি স্টেশনে পৌঁছানোর পর রাত ৭টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব যাত্রীর জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো প্রয়োজন ছিল, তাদের জন্য টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অনলাইনে কেনা টিকিটের টাকা অনলাইনে এবং কাউন্টার থেকে কেনা টিকিটের টাকা কাউন্টার থেকেই ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।’
কেকে/এআই