নীলফামারীর দারোয়ানী রেলস্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেছে এলাকাবাসী।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে কর্মসূচি চলাকালে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী দুটি ট্রেন চার ঘন্টা ধরে আটকা পড়ে। পরে স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ট্রেন দুটি ছেড়ে যায়।
কর্মসূচির অংশে বুধবার সকাল ৯টার দিকে দারোয়ানী রেলস্টেশনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা রেললাইনে অবস্থান নিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী রকেট মেইল ও রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, দারোয়ানী রেল স্টেশনে অন্তত দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে হবে।
আন্দোলনকারী আমিনুর রহমান বলেন, ‘দারোয়ানী রেল স্টেশনটি অনেক পুরোনো। আগে এ স্টেশনে সকল ট্রেনের যাত্রাবিরতি ছিল। স্টেশনটি প্রায় ১০ বছর আগে আধুনিকায়ন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের এখানে শুধু একটি লোকাল ট্রেন ছাড়া কেনো ট্রেনের যাত্রা বিরতি নেই। আমরা চাই, এখানে অন্তত দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া হোক।’
আন্দোলনকারী সফিয়ার রহমান বলেন, ‘নীলফামারী রেল স্টেশন থেকে দারোয়ানী রেল স্টেশনের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা যশোরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে আমাদের নীলফামারী রেল স্টেশনে যেতে হয়। আবার ওইসব স্থান থেকে ফেরার সময় নীলফামারী যাওয়ার পর আবারও ১২ কিলোমিটার পথ পারি দিয়ে ফিরতে হয়। অথচ এ স্টেশনে ২ মিনিট যাত্রা বিরতি দেওয়া হলে এ অঞ্চলের মানুষ ব্যবসা বাণিজ্যসহ সকল সুযোগ সুবিধা পেত।’
নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার ময়নুল হোসেন বলেন, ‘সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি নীলফামারী স্টেশনে প্রবেশ করে। এরই মধ্যে জানতে পারি দারোয়ানী স্টেশনে রকেট মেইল ট্রেন আটকে রেখে আন্দোলন করছেন স্থানীয়রা। এতে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিলে, দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।’
নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের উদ্যেশ্যে বলেন, ‘আমি রেলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি। ৪৩০ জন নতুন স্টেশনমাস্টার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণ চলছে। প্রশিক্ষণ শেষে বন্ধ থাকা রেলস্টেশনগুলোতে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। দারোয়ানী রেলস্টেশনে যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্টেশনমাস্টার নিয়োগ দিয়ে ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করা যায়, সে ব্যাপারে আমি আমার জায়গা থেকে সর্বচ্চ চেষ্টা করবো।’
কেকে/এআই