মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। এ বছর শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মোট ১৭৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল পৌরসভা এলাকায় ১৭টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ১৩টি সার্বজনীন ও ৪টি ব্যক্তিগত। অন্যদিকে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ১৫৬টি মণ্ডপের মধ্যে ১৪৪টি সার্বজনীন ও ১২টি ব্যক্তিগত। সব মিলিয়ে উপজেলায় ১৫৭টি সার্বজনীন ও ১৬টি ব্যক্তিগত মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়।
বিজয়া দশমীর দিন বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
এক ধন্যবাদ বার্তায় মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রীমঙ্গল পৌরসভা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, স্থানীয় সচেতন নাগরিক এবং দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন সম্ভব হয়েছে।’
তিনি শারদীয় দুর্গাপূজা সফল, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা প্রদানকারী সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।
ইউএনও আরও আশা প্রকাশ করেন, শ্রীমঙ্গলের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্যের বন্ধন ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে। এ সম্প্রীতি আগামীর সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ধন্যবাদ বার্তায় আরও জানানো হয়, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও আশপাশের এলাকা থেকে সব ধরনের ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করা হবে।
এ ছাড়া ফুটপাত ও সড়কে অবৈধ দখল প্রতিরোধে চলমান উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরা হয়।
কেকে/এআই