বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা      ● সৌহার্দ্য ও দেশপ্রেম জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ক্রীড়া : প্রধানমন্ত্রী      ● সৌদি আরবের তিন রুটে বিমানের ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত      ● ঢাকা-সৌদি রুটের ১৩৪ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রীরা      ● হাম উপসর্গে একজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০১০      ● ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৩৬৪      ● টঙ্গীতে গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ      
খোলাকাগজ স্পেশাল
শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শীর্ষ সন্ত্রাসী, পেশাদার গ্যাং এবং চাঁদাবাজ-দখলবাজদের তৎপরতা থামছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও গ্রেপ্তারসহ নানা পদক্ষেপের পরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। বরং দিন দিন বাড়ছে তাদের দৌরাত্ম্য। এতে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একের পর এক চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটছে হত্যাকাণ্ডও। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের নাম উল্লেখ করে জমির ভাড়া দাবি এবং তা পরিশোধ না করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনের শাসনের ঘাটতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ছে। চুক্তিভিত্তিক হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ করেও অনেক অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আধিপত্য বিস্তার ও এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে আন্ডারওয়ার্ল্ডের অভ্যন্তরীণ বিরোধে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও অপরাধীদের দমন করা যাচ্ছে না। অজ্ঞাত কারণে অনেক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না বলেও মনে করেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

তাদের ভাষ্য, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পল্লবী, ধানমন্ডি ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা, ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসা এবং নির্মাণকাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়েছে। এসব বিরোধের জেরে খুন, জখম ও অন্যান্য সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। অতীতে কারাবন্দি থাকা অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রামেও আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের ব্যবহার, হত্যাকাণ্ড, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত নয় মাসে সেখানে অর্ধশতাধিক হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হামলার শিকার হতে হচ্ছে।

কুরিয়ার সার্ভিসে হামলা-লুটপাট, ইমনের নামে ভাড়া দাবি :

রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিকদার মেডিকেল কলেজসংলগ্ন প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে মুখোশ ও হেলমেট পরা একদল ব্যক্তি এ হামলা চালায়। 

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে জমির ভাড়া পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দিতে বলে। নির্ধারিত সময়ে ভাড়া পরিশোধ না করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। হামলাকারীরা ল্যাপটপ, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

হামলার বিবরণ দিয়ে এ জে আর ওয়ার হাউজের নিরাপত্তা ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শতাধিক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। প্রথমে তারা আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়। পরে তাদের একটি দল দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের হুমকি দেয়। হামলাকারীদের সবার মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট ছিল বলে জানান তিনি।

রুহুল আমিনের অভিযোগ, হামলাকারীরা গুদামে ঢুকে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্র খুলে নিয়ে যায়। পরে কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি ল্যাপটপ লুট করে। তিনি জানান, দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে জমিটি ভাড়া নেয় এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিস। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গুদাম ও কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ী, এত দিন শিকদার গ্রুপকেই জমির ভাড়া দিয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি।

রুহুল আমিন আরও বলেন, হামলাকারীরা দাবি করে, শিকদার গ্রুপের মালিকের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনকে দিতে হবে। অন্যথায় সেখানে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয় তারা। প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ইনচার্জ জানান, এ কার্যালয় থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি গাড়ির মাধ্যমে সারা দেশে পণ্য পরিবহন করা হয়। হামলার পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

লুট হওয়া সরঞ্জামের মূল্য ৩১ লাখ টাকা : 

হাজারীবাগ থানায় দায়ের করা অভিযোগে লুট হওয়া বিভিন্ন সরঞ্জামের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি সার্ভার, একটি রাউটার, ৬৪ চ্যানেলের একটি, ৩২ চ্যানেলের দুটি, ১৬ চ্যানেলের দুটি এবং আট চ্যানেলের দুটি এনভিআর; ১০ টেরাবাইট ধারণক্ষমতার আটটি হার্ডডিস্ক; দুই মেগাপিক্সেলের ৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরা; আটটি স্পিড সুইচ, আটটি মনিটর এবং একটি ল্যাপটপ। অভিযোগে এসব সরঞ্জামের মোট মূল্য ৩১ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাইফুল নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় এ হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।’ তিনি জানান, কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়টি যে ভবনে অবস্থিত, সেই ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নাম ব্যবহার করে একদল ব্যক্তি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং চলে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়েছে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  শীর্ষ সন্ত্রাসী   দৌরাত্ম্য   ব্যবসায়ী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close