বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা      ● সৌহার্দ্য ও দেশপ্রেম জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ক্রীড়া : প্রধানমন্ত্রী      ● সৌদি আরবের তিন রুটে বিমানের ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত      ● ঢাকা-সৌদি রুটের ১৩৪ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রীরা      ● হাম উপসর্গে একজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০১০      ● ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৩৬৪      ● টঙ্গীতে গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ      
দেশজুড়ে
আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী বাবুকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
মোহাম্মদপুর (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি লিটন মাহমুদ বাবুকে ঘিরে চলছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, মোহাম্মদপুরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশের পর থেকেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।

তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং এলাকায় সাংগঠনিক অবস্থানের কারণে লিটন মাহমুদ বাবু একটি পক্ষের বিরাগভাজন হয়েছেন। তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা এবং আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বাধাগ্রস্ত করতেই নানা অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

কাউন্সিলর নির্বাচন ঘিরেই আলোচনা

স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ জানান, লিটন মাহমুদ বাবু মোহাম্মদপুরের রাজনীতিতে নতুন মুখ নন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে কাউন্সিলর নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতেও কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বাবু। এর মধ্যে ২০২০ সালের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি বিএনপি-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে যিনি রাজনীতির মাঠে টিকে ছিলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা কেন—এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।

স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়েই মূলত বিরোধের সূত্রপাত। তবে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ছাত্রদল থেকে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে

লিটন মাহমুদ বাবুর রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৯৩ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে। এরপর ধাপে ধাপে তিনি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

তার দেওয়া রাজনৈতিক পরিচিতি অনুযায়ী, ২০১১ সালে তিনি মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজীব-আকরাম কমিটির সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং কাইয়ুম-হাসান কমিটির সময় মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০২০ সাল থেকে তিনি মোহাম্মদপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে পরপর দুই মেয়াদে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান বলে তার রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে।

মোহাম্মদপুর এলাকায় সরেজমিনে খোঁজ নিতে গেলে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এলাকায় নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন বাবু।

কামরুল হাসানের অভিযোগ, বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও একটি মহল এখনো বাবুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

তার দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে বাবুর বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা হয়েছে। তাকে দুইবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একবার কারাবরণ করতে হয়েছে।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপি ঘোষিত প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামের সময় বাবুকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক চাপের প্রভাব তার পরিবারের ওপরও পড়েছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী।

বাবুকে না পেয়ে পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ

লিটন মাহমুদ বাবুর অভিযোগ, ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তাকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তার ছেলের স্কুলশিক্ষক ও গৃহশিক্ষককে তৎকালীন র‍্যাব সদস্যরা তুলে নিয়ে যান। তার অভিযোগ, মূলত তাকে খুঁজে বের করা এবং তার ছেলেকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, পরীক্ষার কারণে ওই সময় তার ছেলের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে নিয়ে যেতে পারেননি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে র‍্যাবের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সাংগঠনিক ভূমিকার দাবি

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরেও ঢাকা-১৩ আসনে লিটন মাহমুদ বাবুর সাংগঠনিক ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার দাবি, কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বাবু দলীয় পরিচয় ও অবস্থান ধরে রেখেছেন। তার মতো দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকে ঘিরে অপপ্রচার চালানো হলে তা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এলাকার প্রবীণ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কারও ত্যাগ ও অবদান যেমন মূল্যায়ন করা প্রয়োজন, তেমনি যেকোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের বিকল্প নেই।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

বাবুকে ঘিরে চলমান অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে স্থানীয়দের একটি অংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা জরুরি।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, মোহাম্মদপুরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কি সত্যিই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে, নাকি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে লিটন মাহমুদ বাবুকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে? অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তেই এসব প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হতে পারে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close