গাজীপুরে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান ধর্মঘট ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সচেতন নাগরিক ঐক্য গাজীপুর।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় নগরীর ভোগড়া বাইপাস এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান বক্তব্য দেন।
আলী নাছের খান বলেন, ‘বিআরটি প্রকল্পের মাত্র ৩ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। এ কাজ শেষ করে ১৮৭টি বাস কেনার জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করলেই প্রকল্পটি সম্পন্ন করা সম্ভব। অথচ যারা এখান থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ নিতে চান এবং কাজ না করেই ঠিকাদারকে আরও ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ফেরত দিতে চান, তাদের স্বার্থে প্রকল্পটি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ঠিকাদার সিন্ডিকেট, ‘মুড়ির টিন’ সিন্ডিকেট পরিবহন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বিএনপির দুর্নীতিবাজ নেতারা আমলাতন্ত্রকে প্রভাবিত করে সচিবের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বিআরটি প্রকল্প বাতিল করতে চাইছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি নির্মাণ করতে ১৪ বছর লেগেছে। এখন এটি ভাঙতে আরও পাঁচ বছর লাগবে। ভবিষ্যতে ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে তিন লেন দিয়ে যানবাহন চলবে, আর বাকি তিন লেনে চলবে ভাঙার কাজ। এতে গাজীপুরবাসীকে তীব্র যানজটের দুর্ভোগ পোহাতে হবে এবং অঞ্চলটি বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হবে। নতুন করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালসহ কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হবে। এতে গাজীপুরের উন্নয়নের সম্ভাবনা নষ্ট হবে।’
আলী নাছের খান বলেন, ‘সরকারের কাছে দাবি প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে বিআরটি প্রকল্প চালু করতে হবে। অন্যথায় তারা ধারাবাহিক প্রতিরোধ কর্মসূচি পালন করবেন।’
কেকে/এআই