বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● আগামী ১০ বছরেরও হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার      ● প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, যুবক আটক      ● শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা      ● সৌহার্দ্য ও দেশপ্রেম জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ক্রীড়া : প্রধানমন্ত্রী      ● সৌদি আরবের তিন রুটে বিমানের ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত      ● ঢাকা-সৌদি রুটের ১৩৪ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রীরা      ● হাম উপসর্গে একজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০১০      
দেশজুড়ে
আ.লীগের সঙ্গে জামায়াত একাকার, এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না: মতিউর রহমান
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ পিএম আপডেট: ২২.১০.২০২৬ ৪:০১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী একাকার হয়ে গেছে—এমন অভিযোগ বাংলাদেশের কোনো পাগলও বিশ্বাস করবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় কিশোরগঞ্জের একটি পার্কের কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন (সদস্য) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, “যে দল ক্ষমতায় গিয়ে এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে, বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা সাঈদীকে কারাগারে সম্মানজনকভাবে থাকার সুযোগ দেয়নি, সেই জালিম ও খুনিদের দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী একাকার হয়ে গেছে—এটা বাংলাদেশের কোনো পাগলেও বিশ্বাস করবে না।”

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে জামায়াতের কাছ থেকে বিএনপি সমর্থন নিয়েছে। জামায়াতের সমর্থন না পেলে বিএনপি ৯৫টি আসনে বিজয়ী হতে পারত না বলেও দাবি করেন তিনি।

সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সাবেক উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসানের বক্তব্য থেকেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, সমঝোতা ও আঁতাতের মাধ্যমে ভোটের অধিকার ক্ষুণ্ন করে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা হয়েছে। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করে তার দায় জামায়াতের ওপর চাপানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, দেশে কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও বিনিয়োগ কমে গেছে। কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট রয়েছে এবং সারকারখানাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার যদি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে চায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও সেগুলো কার্যকরের ক্ষেত্রে সরকারের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

জামায়াতের ঘোষিত সাত দফা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব দাবির কোথাও সরকার পতনের কথা বলা হয়নি। তারপরও সরকার কেন এত উদ্বিগ্ন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দাবি পূরণ না হলে সাত দফা এক দফায় রূপ নিতে পারে—এমন বক্তব্যের পর সরকার অস্থির হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে; তাই আগের সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, বিভিন্ন সাংবিধানিক ও অন্যান্য বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষর করার পর এখন তা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এভাবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর জবাব দিতে হবে।

দেশ পরিচালনার সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে বিএনপির চেয়ে ৫০ গুণ ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারবে। ঢাকার যানজট দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশকে যানজটমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিরোধে দলের বিপুলসংখ্যক জনশক্তি কাজ করবে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী কাউকে ভয় করে না, শুধু আল্লাহকে ভয় করে। আগামী দিনে রাষ্ট্রক্ষমতা ইসলামপন্থীদের হাতে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা অধ্যক্ষ মো. তৈয়বুজ্জামান ও মাওলানা আব্দুস সালাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজিজুল হক, ঢাকা মহানগরী উত্তরের শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ওয়ারী থানার আমির মাহবুবুর রহমান মাহফুজসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যের পর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী দলীয় নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালকদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এরপর তিনি সভাপতির আসন ছেড়ে রুকনদের সারিতে বসেন।

পরে জেলার আট শতাধিক পুরুষ ও নারী রুকন গোপন ব্যালটে আগামী দুই বছরের জন্য জেলা আমির নির্বাচনে ভোট দেন। ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কাজী সাইফুল্লাহ। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামসুল আলম সেলিম ও মাওলানা এস এম ইউসূফ।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  আওয়ামী লীগ   জামায়াত  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close